“রক্ষকই যখন ভক্ষক!”-সল্টলেকে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’, গ্রেফতার বাংলার পুলিশ অফিসার

যাঁদের ওপর সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব, তাঁদের বিরুদ্ধেই উঠল এমন ভয়ঙ্কর অভিযোগ। এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে বীরভূমের নলহাটি থানার এক এএসআই (ASI)-কে গ্রেফতার করল বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। অভিযুক্ত ওই পুলিশ আধিকারিকের নাম আজমল হক।

ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাই মাসে। ওই তরুণী বিধাননগর পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, আজমল হক তাঁকে সল্টলেকের সিএল (CL) ব্লকের একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে বিধাননগর পুলিশ এবং পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীকে ধর্ষণের এই মামলায় শুরুতে জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন ওই সাব ইন্সপেক্টর। তদন্তের প্রয়োজনে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ পরে বীরভূম জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু ততদিনে বেপাত্তা হয়ে যান অভিযুক্ত আজমল। তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি রীতিমতো গা ঢাকা দেন।

তবে শেষরক্ষা হয়নি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত আজমল হক মুম্বইয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। এরপরই বিধাননগর পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছায় এবং গতকাল সোমবার মুম্বই থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

মুম্বইয়ের একটি আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ডে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আজ তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করতে আজমল হককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারীরা।

ইতিমধ্যেই বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। ঠিক কী ঘটেছিল এবং এর পেছনে আরও কোনো কারণ লুকিয়ে আছে কি না, তা জানতে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ জোরকদমে চলছে। পুরো ঘটনায় পুলিশ মহলেও বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।