রিটায়ারমেন্টের পর টাকা আসবে কোথা থেকে? এই ৫টি উপায়ে মিলবে দারুণ আর্থিক সুরক্ষা!

কর্মজীবন শেষ হওয়ার পর নিয়মিত মাইনে বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, তবে তার অর্থ এই নয় যে আপনার আর্থিক আয়ও চিরতরে থেমে যাবে। একটু বুদ্ধিমত্তা ও সঠিক পরিকল্পনা করলে অবসরের পরেও পেনশন, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) বা স্থায়ী আমানতের সুদ, বাড়ি বা সম্পত্তির ভাড়া, পাশাপাশি শেয়ার বাজার এবং মিউচুয়াল ফান্ড থেকে নিয়মিত উপার্জনের ধারা অত্যন্ত সফলভাবে বজায় রাখা সম্ভব। তবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এই বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি বড় অংশ ভারতীয় আয়কর আইনের অধীনে নির্দিষ্ট করের আওতাভুক্ত হয়ে থাকে। তাই অবসরের পর আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও নিখুঁত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পুরানো কর ব্যবস্থা বা ওল্ড ট্যাক্স রেজিম অনুযায়ী, দেশের যোগ্য ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আয়কর আইনের ধারা ৮০টিটিবি (Section 80TTB)-র অধীনে একটি দারুণ বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই বিশেষ বিধানের আওতায় প্রবীণ নাগরিকরা ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে জমা রাখা সঞ্চয়ের ওপর প্রাপ্ত বার্ষিক সুদ আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় বা ডিডাকশনের সুবিধা পেতে পারেন। এটি প্রবীণদের করের বোঝা অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে। তবে অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে ফর্ম ১৫এইচ (Form 15H) জমা দিলেই সমস্ত ধরনের সুদের ওপর লাগাতার ট্যাক্স বা কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি বা করমুক্ত হয়ে যায়, যা আদতে সত্য নয়।
আসলে ফর্ম ১৫এইচ জমা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে আপনার মোট করযোগ্য আয় যদি কর সীমার নিচে থাকে, তবে উৎসস্থল বা টিডিএস (TDS) কাটা রোধ করা। এর অর্থ এই নয় যে আপনার সমস্ত সুদের আয় চিরকালের জন্য করমুক্ত হয়ে গেল। তাই অবসরের পর করের সঠিক নিয়মকানুন মেনে আর্থিক পরিকল্পনা করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে বার্ধক্যেও আর্থিক সচ্ছলতা বজায় থাকে এবং কোনো রকম অপ্রীতিকর আইনি জটিলতা ছাড়াই জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করা যায়।