আমেরিকা-ইউরোপের চোখে চোখ রেখে রাশিয়ার সঙ্গে হাত মেলাল ভারত! বিশ্ব কূটনীতিতে বিরাট ভূমিকম্প

আজ যখন গোটা বিশ্ব একদিকে দাঁড়িয়ে আর রাশিয়া অন্যদিকে দাঁড়িয়ে, তখন ভারত যা করেছে তা বিশ্ব কূটনীতির সমস্ত সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, ইউরোপ চোখ রাঙিয়েছে এবং মার্কিন ডলারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় অর্থনীতিকে চাপে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মস্কো থেকে আসা এই খবর কেবল একটি সাধারণ বাণিজ্যিক খবর নয়; এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের এক নতুন জয়ধ্বনি। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের রাশিয়ান এনার্জি উইক বা REW-এ ভারত তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অংশীদার দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই বিরল সম্মান আজ পর্যন্ত অন্য কোনো দেশকে দেওয়া হয়নি, এমনকি চিনকেও এই মর্যাদা দেওয়া হয়নি।
মস্কোর ম্যানেজ সেন্ট্রাল এক্সিবিশন হল বর্তমানে গোটা বিশ্বের ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেখানে ১০০টি দেশের ৭০০০-এরও বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত রয়েছেন, কিন্তু সকলের নজর আটকে রয়েছে কেবল ভারতের ত্রিবঙ্গ পতাকার ওপর। রুশ সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারত প্রধান আকর্ষণ ও প্রধান অংশীদার। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রি বা FIPI-এর নেতৃত্বে ভারতের আটটি বৃহত্তম মহাররত্ন ও নवरত্ন কোম্পানি সেখানে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে।
এই প্রদর্শনী কেবল তেল দেখানোর জন্য ছিল না, বরং গোটা বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য যে, ভারত এখন রাশিয়ার বিশাল জ্বালানি সাম্রাজ্যের এক অন্যতম প্রধান অংশীদার। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন যে, রাশিয়া এবার ভারতের মাটিতে নিজেদের সরাসরি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বা বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা মার্কিন প্রশাসনের জন্য এক বিশাল হুশিয়ারি। ২০২৬ সালের জুলাই মাসের পরিসংখ্যান দেখলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে। ওই সময়ে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল আমদানি করেছে, যা ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৫৫.৫ শতাংশ। একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের এই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম ছিল।
আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার তেলের ওপর প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারের প্রাইস ক্যাপ বা মূল্যসীমা আরোপ করেছিল যাতে মস্কো অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু ভারত অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে নিজস্ব কৌশল প্রয়োগ করে সেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ভারত শুধু নিজেই রেকর্ড পরিমাণ সস্তা তেল কেনেনি, বরং সেই তেল শোধন করে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সাপ্লাই করেছে। একসময় যে রাশিয়ার ওপর কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল, সেই রাশিয়ার তেলই ঘুরপথে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে ভারত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে বিশাল মুনাফা অর্জন করেছে। কৌতূহল ও দূরদর্শিতার এই মাস্টারস্ট্রোক আগামী দিনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজনেস স্কুলগুলোতে পড়ানো হবে।