বদলাতে চলেছে আপনার প্রিয় রাম ও হুইস্কির স্বাদ! FSSAI-এর কড়া নিয়মে বিরাট সিদ্ধান্ত ডিয়াজিওর!

ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই (FSSAI)-এর নতুন ও কঠোর নিয়মকানুনের প্রভাবে দেশের গোটা মদের বাজারে এক বিশাল পরিবর্তন ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বখ্যাত মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিও তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় হুইস্কি এবং রামের ফর্মুলা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জানা গেছে যে, দেশের আইন ও সরকারি মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সংস্থাটি মদের ফ্লেভার সংক্রান্ত বিতর্কিত উপাদানগুলো বাদ দিতে সরকারের সঙ্গে একমত হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইন ব্যবসায়ীদের আশা, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে সংস্থাটির বহু জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিক্রির ক্ষেত্রে এতদিন ধরে যে আইনি বাধা বা নিষেধাজ্ঞা ঝুলছিল, তা খুব শীঘ্রই পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মদের স্বাদ, গন্ধ এবং বোতলের প্যাকেজিংয়ে বেশ কিছু লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনি লড়াই ছেড়ে নতুন পথ বেছে নিল ডিয়াজিও
কিছুদিন আগেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই মদে যোগ করা কিছু নির্দিষ্ট কৃত্রিম ফ্লেভার ও উপাদানের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। এর ফলে ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড, যা মূলত ডিয়াজিও-র ভারতীয় শাখা হিসেবে পরিচিত, তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ম্যাকডোয়েলস নং ১ সেলিব্রেশন ম্যাচিওরড XXX রাম’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে। সংকট কাটাতে সংস্থাটি প্রথমে যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ না করে একপাক্ষিক পদক্ষেপ নেওয়ার যুক্তি দেখিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জোরালো আপিল করেছিল। তবে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ডিয়াজিও এখন দীর্ঘমেয়ী ও জটিল আইনি লড়াইয়ে না জড়িয়ে নিজেদের পণ্যের মূল ফর্মুলা পরিবর্তন করার নমনীয় পথ বেছে নিয়েছে।

বদল হচ্ছে আপনার পছন্দের মদের স্বাদ
এফএসএসএআই-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির অংশ হিসেবে, কোম্পানিটি তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এতদিন ধরে মদে যে সমস্ত বিতর্কিত ফ্লেভারিং উপাদান ব্যবহার করা হতো, তা এখন থেকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই, এই উপাদানগুলোর পরিবর্তনে মদের স্বাদে ও গন্ধে সামান্য তারতম্য বা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। শুধু স্বাদ বদলই নয়, বরং নতুন সরকারি নিয়মকানুনের শতভাগ স্বচ্ছতা ও প্রতিপালন নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি তাদের প্রতিটি বোতলের লেবেলগুলোও নতুন করে হালনাগাদ বা আপডেট করবে। নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এই সমঝোতা ও চুক্তির পর প্রভাবিত হওয়া ব্র্যান্ডগুলোর ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা খুব দ্রুত তুলে নেওয়া হবে।

এফএসএসএআই-এর কঠোরতার নেপথ্যে মূল কারণ
এই গোটা পরিস্থিতি কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয়নি। ভারতের বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত অ্যালকোহলের গুণমান, মানদণ্ড এবং বিশুদ্ধতা সুনিশ্চিত করতে এফএসএসএআই তাদের সামগ্রিক পরিদর্শন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে চায় যে বাজারে বিক্রি হওয়া প্রতিটি অ্যালকোহল যেন নির্ধারিত মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করে। বিশেষ করে, তারা মদে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফ্লেভারিং এজেন্ট ও কেমিক্যালের ওপর এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। এছাড়া, এই ধরনের সংযোজনী উপাদানগুলো বোতলের গায়ে বা লেবেলে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাধারণ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা রক্ষা করা এবং গোটা মদ বাজারে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

প্যাকেজিং বিতর্কও বাড়িয়ে দিয়েছে সমস্যা
ফ্লেভার সংক্রান্ত এই বিতর্ক ছাড়াও ডিয়াজিও বর্তমানে অন্য একটি জটিল আইনি ক্ষেত্রেও বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির প্রায় ১৮,০০০ কেস মদ বাজোপ্ত করেছে। প্লাস্টিক প্যাকেজিং সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মূলত পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের চিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানির গুরুতর অবহেলা প্রকাশ করে। যদিও প্লাস্টিক সংক্রান্ত এই ঘটনাটি ফ্লেভার বিতর্ক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তবুও এটি অত্যন্ত স্পষ্ট করে দেয় যে ভারতের মদ শিল্পের ওপর সরকারি নজরদারি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও কড়া হয়েছে। যেহেতু ভারত ডিয়াজিওর জন্য একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং গুরুত্বপূর্ণ বাজার, তাই কোম্পানিটি কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে এবং তাদের পণ্যের বিক্রি নির্বিঘ্নে ও বাধাহীন রাখতে বদ্ধপরিকর।