বিছানা গোছানোর নামে সামান্য ঝগড়া তারপরেই খতম পুরো পরিবার! স্ত্রীর এমন ভয়ঙ্কর রূপ দেখে চমকে যাবেন

পরকীয়ার চরম জেরে ছারখার হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। গভীর রাতের অন্ধকারে ঘটা এক নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে বাবা ও অবুঝ ছেলের। স্ত্রীর হাতেই এভাবে নিজের সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার এই লোমহর্ষক ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠেছে গোটা বেঙ্গালুরু শহর। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর চিক্কাবানাভারা এলাকায়। নিজ গৃহ থেকে ৩৪ বছর বয়সি এক যুবক ও তাঁর ৪ বছরের শিশু পুত্রের নিথর দেহ উদ্ধারের পরেই পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্যগুলো প্রকাশ্যে এনেছে।

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গৃহবধূ তাঁর পরকীয়া সম্পর্কের টানে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মাঝরাতে নিজ স্বামীকে নির্মমভাবে খুন করেন। কিন্তু পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয় যখন এই ভয়ংকর কাণ্ড দেখে ফেলায় কান্নাকাটি শুরু করে চার বছরের অবুঝ শিশুটি। খুনের সমস্ত প্রমাণ চিরতরে লোপাট করার জন্য নির্মম মা নিজের কোলের চার বছরের সন্তানের মুখেই বালিশ চাপা দিয়ে অত্যন্ত নিদারুণভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও ঝামেলা হয়েছিল। তবে সেই ঝামেলা পরকীয়া নিয়ে ছিল না, বরং বিছানা গোছানো এবং মশারি টাঙানো নিয়ে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দম্পতির মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই ক্ষোভের জেরে ঝামেলার সময় স্বামীর মাথায় ভারী খুন্তি দিয়ে সজোরে আঘাতও করেছিলেন স্ত্রী। এরপর অশান্তির অবসান ঘটিয়ে দু’জনেই রাতের বেলা আলাদা আলাদা ঘরে ঘুমাতে চলে যান।

কিন্তু রাতের অন্ধকার ঘনীভূত হতেই অভিযুক্ত স্ত্রী তাঁর গোপন প্রেমিককে একেবারে চুপিসারে বাড়িতে ডেকে পাঠান। এরপর প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি স্বামীর ঘরে প্রবেশ করে দুজনে মিলে ঘুমন্ত স্বামীকে সুকৌশলে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই পাশের ঘরের কোলাহলে বা শব্দে ঘুম ভেঙে যায় অবুঝ ছেলের। চোখের সামনে বাবার মর্মান্তিক পরিণতি দেখে ফেলা সেই শিশুটিকেও বিন্দুমাত্র দয়া না করে মা নিজের হাতে বালিশ চেপে শ্বাসরোধ করে চিরঘুমে পাঠিয়ে দেয়।

ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে ওঠার আগেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত গৃহবধূকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সেই গৃহবধূর প্রেমিক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাঁর খোঁজে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই রাতে বাড়িতে ঢোকার আগেই সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি কৃত্রিম উপায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল যাতে অপরাধের কোনো দৃশ্য সংরক্ষিত না থাকে। ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্বরোচিত এই জোড়া খুন নিয়ে পুলিশি তদন্ত এখনও জোরকদমে জারি রয়েছে।