সাদা পোশাকে পুলিশের লাঠিচার্জ! এক মাস পর সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক সাফাই দিল্লি পুলিশের

দিল্লিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে যে নজিরবিহীন হিংসা ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে এক মাস পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেই সময় সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের নির্মমভাবে ছাত্রদের ওপর চড়াও হওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল। ঘটনার পরই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে দিল্লি পুলিশ এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখলেও, দীর্ঘ এক মাস পর অবশেষে তারা সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্তারিত হলফনামা দাখিল করেছে।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা তাঁর পেশ করা ওই হলফনামায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, বিক্ষোভের ভিড়ের মধ্যে অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই সাদা পোশাকের কর্মী ও গোয়েন্দাদের মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি বিশেষ কৌশলগত পদক্ষেপ। শুধু তাই নয়, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সেদিন ভিড়ের মধ্যে স্পেশাল সেল এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের তুখোড় কর্মীদেরও মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আইন বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম লাইভ ল-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে এই পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে। তাদের প্রধান যুক্তি হলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামলানোর জন্য অতীতেও বহুবার এই ধরনের সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি বর্তমান পরিস্থিতিতে মোটেও কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।
তবে এই কৌশলগত মোতায়েনের ফল যে কতটা মারাত্মক ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন সাদা পোশাকের ওই কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হন। বিক্ষোভ চলাকালে ওই কর্মীরা নৃশংসভাবে লাঠি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বিচারে চলা লাঠিচার্জের ফলে প্রায় ২০০ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী গুরুতরভাবে আহত হন। পাশাপাশি, তীব্র ধস্তাধস্তিতে প্রায় ২৫০ জন পুলিশকর্মীও আহত হওয়ার খবর মিলেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হিংসাত্মক পরিস্থিতি ও জনরোষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লাঠির ব্যবহার আইনসম্মত এবং জরুরি ছিল।
এই চরম সহিংসতার ঘটনার পরই মানবাধিকার কমিশনে একটি কঠোর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ন্যায়বিচারের আশায় আবেদনকারীরা বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও নিয়ে যান। আবেদনকারীদের মূল যুক্তি ছিল যে, সাদা পোশাকের ওই বিশেষ সৈন্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে বরং সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও হিংসা ছড়িয়ে পড়ার জন্য সরাসরি দায়ী ছিল।
তাহলে ঠিক কী কারণে পুলিশকে এমনভাবে সাদা পোশাকে মাঠে নামানো হয়? এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। বিক্ষোভ বা বড় কোনো জনসমাবেশের সময় স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিট বা বিশেষ শাখার সদস্যরা সাধারণ মানুষের পোশাকে ভিড়ের গভীরে মিশে যান, যাতে কোনো সমাজবিরোধী উপাদান বা দুষ্কৃতী গোপনে অশান্তি পাকিয়ে সহিংসতায় উসকানি দিতে না পারে। দ্বিতীয়ত, পরিস্থিতি সহিংস রূপ ধারণ করা থেকে প্রতিরোধ করা। ভিড়ের অন্দরে ঠিক কী ঘটছে এবং আন্দোলনকারীদের মূল পরিকল্পনা কী, তা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করাই এই সাদা পোশাকের কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব। মূলত যেকোনো বড় ধরনের রক্তক্ষয় বা নাশকতা এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি পুলিশের।