পেনশন কি ‘আর্থিক বোঝা’? সরকারি নির্দেশিকার বিতর্কিত শর্ত বাতিলের দাবিতে সরব সংগঠনগুলো!

কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন করে সরব হয়েছে বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সংগঠন। ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যপরিধি (ToR)-এ স্পষ্ট এবং জরুরি সংশোধনী আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। ভারত পেনশনভোগী সমাজ (বিপিএস), সর্বভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মচারী ফেডারেশন (এআইডিইএফ), এনসিসিপিএ এবং এফসিপিএ-র মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলি এই মর্মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছে।
সংগঠনগুলোর মূল আপত্তির জায়গা হলো অষ্টম বেতন কমিশনের বর্তমান কার্যপরিধি। তাদের মতে, এই নির্দেশিকায় প্রবীণ পেনশনভোগীদের পেনশন পর্যালোচনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। পেনশনভোগী সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান টিওআর-এ প্রবীণ ও ভবিষ্যৎ পেনশনভোগীদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান, পারিবারিক পেনশনের সংশোধন বা অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিষয়গুলো কার্যত এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ত্রুটিগুলো অবিলম্বে দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে বা পরে অবসর গ্রহণকারী সমস্ত কর্মচারী তাদের প্রাপ্য পেনশন সংক্রান্ত সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত না হন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘অর্থায়নবিহীন ব্যয়’ বা ‘Unfunded Cost’ নামক একটি শব্দবন্ধ। এআইডিইএফসহ অন্যান্য সংগঠন কার্যপরিধিতে এই শব্দটির ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের পেনশন কোনোভাবেই সরকারের ওপর ‘আর্থিক বোঝা’ বা ‘বাজেট-বহির্ভূত ব্যয়’ হতে পারে না। সংগঠনের যুক্তি, সরকারি চাকরির পর প্রাপ্ত পেনশন কর্মচারীদের একটি আইনগত অধিকার এবং একে বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সরকার পুরাতন পেনশন স্কিমকে (OPS) যেভাবে একটি অর্থায়নবিহীন দায় হিসেবে দেখছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।
এ ছাড়াও, পেনশনের বৈষম্য দূর করে পুরোনো এবং নতুন অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে সমতা আনার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরদার সওয়াল করা হয়েছে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্তদের জীবনযাত্রার মান ও মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে ন্যূনতম মূল পেনশন মাসিক ৯,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পেনশনভোগী সংগঠনগুলির এই দাবি পূরণের মাধ্যমে সরকার যদি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটায়, তবে তা লক্ষ লক্ষ প্রবীণ নাগরিকের জীবনে স্বস্তি ফেরাবে। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কার্যপরিধিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনে কি না। এই পুরো বিষয়টি ঘিরে বর্তমানে গোটা দেশের সরকারি মহলে তীব্র আলোচনার ঝড় উঠেছে।