সাংসদদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার অপরাধ মামলা! সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

দেশের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পরিসংখ্যান সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া একটি নতুন হলফনামায় দেশের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলার ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, লোকসভার ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে ২৫১ জনের বিরুদ্ধেই অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্যের মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সবমিলিয়ে বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদ এবং বিধায়কদের প্রায় ৪১৯২টি মামলা এখনও দেশের বিভিন্ন আদালতে ঝুলে রয়েছে। শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া এই পরিসংখ্যান ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সর্বত্র।
সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপরাধ মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করার আর্জি জানিয়ে আদালতে এই হলফনামা জমা দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী বিজয় হন্সারিয়া। তিনি তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, লোকসভার ২৫১ জন অভিযুক্ত সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৭০ জনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের কারাবাসের সাজা হতে পারে। একইভাবে, রাজ্যসভার ৭৫ জন অভিযুক্ত সাংসদের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধেও গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (ADR)-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে আইনজীবী জানান যে, ২০২৫ সালে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে থাকা ১২৪৩টি মামলার নিষ্পত্তি হলেও সেই বছরই নতুন করে আরও ১০৫০টি মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা ৪১৯২টিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এই হলফনামায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের আইনি জট নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৪ জন মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে এবং এর মধ্যে বহু গুরুতর মামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি, কর্নাটকের ডি কে শিবকুমার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিশাল সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী বিজয় হন্সারিয়ার জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮৯টি অপরাধ মামলা ঝুলে রয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে মামলার হার অত্যন্ত বেশি। কেরলের ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধেই অপরাধ মামলা রয়েছে এবং ১১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে তেলঙ্গানার ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন, ওড়িশার ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন, ঝাড়খণ্ডের ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন এবং তামিলনাড়ুর ৩৯ জনের মধ্যে ২৬ জন সাংসদ ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, কর্নাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশের প্রায় ৫০ শতাংশ সাংসদের বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইকোর্টগুলিকে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে এই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তবুও হাজার হাজার মামলা এখনও অমীমাংসিতই রয়ে গিয়েছে।