মধ্যপ্রদেশের ভিন্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! পথচলতি গবাদি পশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকের মুখোমুখি ধাক্কায় মৃত ৮ শ্রমিক

মধ্যপ্রদেশের ভিন্ড জেলায় একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের আটজন পরিযায়ী শ্রমিক। মঙ্গলবার গভীর রাতে ভিন্ড-গোয়ালিয়র জাতীয় মহাসড়কের ছিমকা গ্রামের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন শ্রমিক, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়ালিয়রের চিনৌর এলাকায় ধান রোপণের কাজ শেষ করে পিকআপ লোডিং গাড়িতে চেপে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি, পাঁচগাওয়ান ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিজ নিজ গ্রামে ফিরছিলেন ওই শ্রমিকরা। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ ভিন্ড-গোয়ালিয়র জাতীয় মহাসড়কের ওপর আচমকাই একটি গবাদি পশু চলে আসে। সেই পশুকে বাঁচাতে গিয়ে পিকআপ ভ্যানটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর জেরে গাড়িটি ভুল দিকে চলে যায় এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ডাম্পার ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। গোহাদ চৌরাহা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রামনারেশ যাদব জানিয়েছেন যে সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বহু শ্রমিক ভেতরে আটকে পড়েন।

খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে। গ্যাস কাটার বা অন্যান্য উপায়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও তিনজন মারা যান। এই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৩২ জনের মধ্যে গুরুতর জখমদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে গোয়ালিয়রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আহত শ্রমিক নন্দলাল জানিয়েছেন যে তাঁরা সবাই কাজের তাগিদেই ভিন্ড ও গোয়ালিয়র অঞ্চলে এসেছিলেন এবং কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথেই এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

এদিকে, মধ্যপ্রদেশের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকদের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি এই মৃত্যুকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, নিহত শ্রমিকদের মৃতদেহ সসম্মানে নিজ নিজ জেলায় ফিরিয়ে আনা, আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে নিহত প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।