‘বাথরুমে লুকিয়ে,বাঁচার চেষ্টা করছিলাম’, তারাপীঠের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষীর চাঞ্চল্যকর বয়ান

শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরের অদূরে ‘বিদেশিনী’ নামক ওই গেস্ট হাউসে ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সময়, তবে সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতি এখনো টাটকা বেঁচে ফেরা পর্যটকদের মনে। সেই রাতের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ওই হোটেলে থাকা এক পর্যটক।

তিনি জানান, তাঁরা বিদিশিনী গেস্ট হাউসের ০১ এবং ০২ নম্বর রুমে ছিলেন। মোট সাতজন পর্যটক ওই দুটি ঘরে ছিলেন। ভোর সাড়ে চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে হঠাৎ বাইরে পটপট করে শব্দ শুনতে পান তাঁরা—যেমনটা শুকনো কাঠ পুড়লে হয়। ঘরের দরজা খুলতেই ভেতরে আগুনের লেলিহান শিখা এবং কালো ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। ঘরটি এসি হওয়ার কারণে কোনো জানালা খোলার বা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না।

বাঁচার জন্য কোনো উপায় না দেখে তাঁরা বাথরুমের আশ্রয় নেন। ওই সাতজন দুটি ঘরের দুটি আলাদা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন, যাতে ধোঁয়া ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। পর্যটকের কথায়, “আমরা বাথরুমের উপরের জানালা ভেঙে বহুক্ষণ ডাকাডাকি করেছি। কিন্তু হোটেলের কোনো কর্মী আমাদের বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেননি। তারা শুধু তিন তলা ও চার তলার অতিথিদের বের করার চেষ্টা করছিলেন।”

শেষমেশ উপায়ান্তর না দেখে তাঁরা তারাপীঠ থানায় বার বার ফোন করেন। পুলিশ এসে হোটেলের দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে। তবে এই ঘটনায় ওই পর্যটকের পা ফ্র্যাকচার হয়েছে এবং তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বর্তমানে রামপুরহাট জেলা সদর হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। সব হারিয়ে এখন চরম বিপর্যস্ত এই পর্যটক পরিবার হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে সাময়িক আশ্রয়ের জন্য একটি বিকল্প ঘরের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে তারাপীঠের সমস্ত হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য প্রশাসন এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ন’সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যারা তারাপীঠের হোটেলগুলোতে ফায়ার অডিট করবে।