“পি চিদম্বরম শুধু ‘নক্ষত্র’ নন, আদ্যোপান্ত একজন নকশাল!” বিস্ফোরক মন্তব্য করে চাঞ্চল্য ছড়ালেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা!

দেশজুড়ে দানা বাঁধা নতুন রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিতর্কের মধ্যে এবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার তরজা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোমবার গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় আক্রমণ শোধরিয়েছেন কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পি চিদম্বরম সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে প্রকাশ্যে নিজেকে ‘বুদ্ধিজীবী নকশাল’ বা ‘দিমাগী নকশাল’ বলে দাবি করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি তুলেছেন যে, যেহেতু দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই নিজেকে এই বিশেষ তকমা দিয়েছেন, তাই অতিসত্বর একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, চিদম্বরম যখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুদায়িত্বে ছিলেন, সেই কার্যকালে কি তিনি সচেতনভাবে এবং জেনেশুনেই দেশের অভ্যন্তরে মাওবাদী ও উগ্রপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছিলেন?
এই গোটা রাজনৈতিক উত্তাপের সূত্রপাত মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাল কেল্লা থেকে দেওয়া স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল এবং জঙ্গলমহল থেকে অস্ত্রধারী উগ্রপন্থা বা সশস্ত্র নকশালবাদকে অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে ঠিকই, তবে বর্তমানে এক নতুন ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে ‘মতাদর্শগত নকশালবাদ’ বা বুদ্ধিজীবী নকশালরা। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই বিশেষ মানসিকতার মানুষেরা দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং জনব্যবস্থার অভ্যন্তরে সুকৌশলে নিজেদের শিকড় গেড়ে বসেছে এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রগতি ও উন্নয়নের পথে এক বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, দেশের এই অভ্যন্তরীণ শত্রুদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে সমাজ থেকে তাদের কোণঠাসা করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (যেটি পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিল)-এ একটি পোস্ট করে কটাক্ষের সুরে লেখেন যে, তিনি একজন ‘বুদ্ধিজীবী নকশাল’ হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। চিদম্বরমের এই মন্তব্যের পরই আক্রমণ শানিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে, চিদম্বরম শুধু মানসিকভাবে নন, বরং তিনি সামগ্রিকভাবেই নকশাল মানসিকতার পোষক।
পাশাপাশি, এই একই প্রেস কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সবসময় সুপরিকল্পিতভাবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রণায় লিপ্ত রয়েছেন। সাম্প্রতিককালে ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীতের অবমাননা প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর বিতর্কিত আচরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই ধরনের কার্যকলাপ থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে যদি কোনোদিন এই দল ফের ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার কী দশা হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে প্ররোচিত করে দেশের অভ্যন্তরে এক নৈরাজ্যকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।