বিধানসভায় পা রেখেই কি মাস্টারস্ট্রোক দিলেন প্রশান্ত কিশোর? বাঁকিপুরে ঐতিহাসিক জয়ের পর পিকে-র মুখে বড় বার্তা!

জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিহার বিধানসভায় বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে পদ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করলেন। বিধানসভার স্পিকার প্রেম কুমার তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে এক ঐতিহাসিক ও ব্যবধান তৈরি করা বিজয় অর্জনের পর প্রশান্ত কিশোর প্রথমবারের মতো একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিহার বিধানসভায় প্রবেশ করেন। অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তিনি শুধুমাত্র ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসেননি, বরং বিহারের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও রাজ্যের সার্বিক কল্যাণে কিছু করার সুদৃঢ় সংকল্প নিয়েই তিনি এই পথে নেমেছেন।

বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “বিহার বিধানসভার সম্মানিত সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারাটা আমার জীবনের অত্যন্ত গর্বের এবং গৌরবের একটি মুহূর্ত। আমি আজ এই পবিত্র অঙ্গন থেকে এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই ফিরে যাচ্ছি যে, আমি সেই সমস্ত শত শত প্রবীণ বিধায়ক ও আইনপ্রণেতাদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নেব, যাঁরা অতীতে এই সমাজ ও রাজ্যের উন্নতির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। আমি বিহারের অবহেলিত মানুষ ও এই রাজ্যের সামগ্রিক স্বার্থে অত্যন্ত অর্থবহ কিছু কাজ করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অতীতে এই বিধানসভায় ভারতরত্ন কর্পূরী ঠাকুর, শ্রীকৃষ্ণ সিংহ, অনুগ্রহ নারায়ণ সিংহ, নীতীশ কুমার, লালু প্রসাদ যাদব, কেদার পান্ডে, রামবিলাস পাসওয়ানের মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বরা সদস্য হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই ঐতিহাসিক পথ অনুসরণ করেই তিনি রাজ্য ও সমাজের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য নিজের সেরাটা উজার করে দিতে চান।

উল্লেখ্য, বাঁকিপুর উপনির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর এক অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে নিজের নিরঙ্কুশ প্রভাব বিস্তার করেছেন। এই আসনে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে ১৯,৩২৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর পেয়েছিলেন মোট ৬৪,১৫১টি ভোট, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নীরজ কুমার পেয়েছিলেন ৪৪,৮২৭ ভোট। এই চাঞ্চল্যকর জয়ের মাধ্যমে তিনি বাঁকিপুর আসনে দীর্ঘ ১৯৯৫ সাল থেকে টিকে থাকা বিজেপির ৩১ বছরের পুরনো দুর্ভেদ্য ঘাঁটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনটি পূর্বে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা নিতিন নবীনের দখলে ছিল, যিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছিল। জন সুরজ পার্টির এই প্রথম নির্বাচনী জয় আগামী দিনে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন গতি এবং পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty