“আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করব না!” ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে মুখ খুলে বিস্ফোরক মন্তব্য কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদের!

‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীত ও গান গাওয়ার বিধানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসল কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ সোমবার সংবাদমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি দেশের জাতীয় সংগীত বা এই বিশেষ গানের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করবেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তিনি তা নিজে গাইবেন না। নিজের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেছেন। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান মাসুদ বলেন যে ইসলাম ধর্মে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা বা বন্দনা করার অনুমতি নেই এবং ভারতীয় সংবিধান তাকে নিজ ধর্মের স্বাধীনভাবে পালনের মৌলিক অধিকার প্রদান করেছে। কেউ জোর করে তাঁর সেই সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে গানটি না গাইলেও তিনি এর কোনো রকম অসম্মান করবেন না এবং যখন এটি গাওয়া হবে, তখন তিনি সম্মানের খাতিরে দাঁড়িয়ে থাকবেন।

কংগ্রেস সাংসদ আরও বলেন যে তিনি তাঁর জীবনে অতীতে কখনও ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাননি এবং ভবিষ্যতেও কখনো তা গাইবেন না। তবে সম্মান প্রদর্শনের খাতিরে তিনি সর্বদা দাঁড়িয়ে থাকবেন। তাঁর মতে, কেউ যদি এই গানটিকে প্রচার বা প্রসার করতে চান, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। নিজের বক্তব্য জোরালো করতে গিয়ে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ করে বলেন যে এই গানটি গাওয়ার আগে যেন প্রত্যেকে এর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এবং পটভূমি খুঁটিয়ে পড়ে দেখেন। এটি কোথা থেকে এল, কীভাবে রচিত হয়েছিল এবং এর পেছনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কী ছিল—তা জানার পরেই যেন কেউ এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আসেন।

অন্যদিকে, এই গোটা ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক শুরু হয়েছে মূলত সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রাজস্থানের চিত্তৌরগড়ে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন যে গত শনিবার কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ে যখন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই সোনিয়া গান্ধী দলীয় কর্মীদের ওই গানটি থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি সোনিয়া গান্ধীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন যে দেশের ১৪০ কোটি মানুষ টিভির পর্দায় এই ঘটনা দেখেছেন এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার এই অপরাধ দেশবাসী কখনো ক্ষমা করবে না।

যদিও এই অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কংগ্রেস শিবিরের পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছে যে সোনিয়া গান্ধী মূলত দলের বর্তমান সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বসার জন্য একটি উপযুক্ত চেয়ারের ব্যবস্থা করার কথা বলছিলেন এবং ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তা সত্ত্বেও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন চরমে পৌঁছেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty