দুই যুগ পর পর্দায় ফিরছেন দুই কিংবদন্তি! নাসিরুদ্দিন ও শাবানা আজমির একসঙ্গে না আসার আসল রহস্য ফাঁস!

হিন্দি চলচ্চিত্রের দুই প্রবাদপ্রতিম তারকা ও অভিনয়ের জীবন্ত কিংবদন্তি নাসিরুদ্দিন শাহ এবং শাবানা আজমি আবারও তাঁদের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রগুলির সুবাদে বিনোদন জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। নাসিরুদ্দিন শাহ তাঁর আসন্ন ছবি ‘ম্যায় বাপাস আউঙ্গা, দ্য টাইটান স্টোরি’ নিয়ে আলোচনার আলোয় রয়েছেন, অন্যদিকে শাবানা আজমি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৪৭’ এবং ‘আওয়ারাাপন ২’ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছেন। বিশেষ করে শাবানা আজমি এই ছবি দুটিতে সম্পূর্ণ বিপরীত দুই চরিত্রে অভিনয় করে সকলের মন জয় করে নিয়েছেন। ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবিতে তিনি যেমন একজন অসহায় ‘মাই’-এর চরিত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয় অভিনয় করেছেন, তেমনই ‘আওয়ারাাপন ২’-তে তাঁর খল ও শক্তিশালী চরিত্রটি দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি, ‘ম্যায় বাপাস আউঙ্গা’ ছবিতে ইশার সিং নামক একজন বাস্তুহারা প্রবীণ ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করে নাসিরুদ্দিন শাহও দর্শকের মন ও মস্তিষ্কে এক গভীর রেখাপাত করেছেন।

বয়স এবং অভিজ্ঞতার পরিধিতে বিচার করলে এই দুই তারকা তাঁদের জীবনের এক অত্যন্ত পরিপক্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অবস্থান করছেন। বর্তমানে নাসিরুদ্দিন শাহের বয়স প্রায় ছিয়াত্তর বছর এবং শাবানা আজমিও পঁচাত্তর বছরের কোঠা ছুঁয়ে ফেলেছেন। এই বয়সেও তাঁদের নিখুঁত অভিনয় শৈলী এবং কাজের প্রতি অফুরন্ত শক্তি ও উদ্দীপনা যে কাউকে অবাক করার মতো। বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই দুই গুণী শিল্পী তাঁদের অনন্য অভিনয় ক্ষমতার জাদুতে প্রতিটি প্রজন্মের দর্শককে চমকে দিয়ে আসছেন। যখনই তাঁরা একসঙ্গে রূপালী পর্দায় পা রেখেছেন, তখনই তাঁদের চিরস্মরণীয় সব চরিত্রের সুবাদে সেই ছবিগুলোকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

নাসির ও শাবানা প্রায় একই সময়ে তাঁদের বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন এবং আশির ও নব্বইয়ের দশকে একাধিক অর্থবহ ও সমান্তরাল ধারার চলচ্চিত্রে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু বিগত প্রায় দুই দশক ধরে তাঁদের আর কোনো চলচ্চিত্রে একসঙ্গে দেখা যায়নি। এই দীর্ঘ বিরতির প্রকৃত কারণ কী হতে পারে? এটি কি নিছকই এক অদ্ভুত সমাপতন? স্বাভাবিকভাবেই, নাসির ও শাবানার কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই তথ্যটি যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনই বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। দর্শকদের একটি বিশাল অংশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন এই দুই কিংবদন্তিকে পুনরায় একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখার জন্য।

তাঁদের যৌথ চলচ্চিত্রের ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, তাঁরা সর্বপ্রথম ১৯৭৫ সালে শ্যাম বেনেগালের বহুল আলোচিত ছবি ‘নিশান্ত’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিটি পরিচালক শ্যাম বেনেগালের কাছে যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনই অভিনেতা হিসেবে নাসিরুদ্দিন শাহের কেরিয়ারের ক্ষেত্রেও এটি ছিল এক বড় টার্নিং পয়েন্ট। শাবানা আজমি এর আগেই ‘অঙ্কুর’-এর মতো দুই-একটি ছবিতে কাজ করে ফেললেও, নাসিরুদ্দিন শাহের জন্য এটিই ছিল প্রথম অভিনীত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এরপর ‘স্পর্শ’, ‘মাসুম’, ‘মন্ডি’, ‘পার’, ‘খামোশ’ এবং ‘লিবাস’-এর মতো বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্রে তাঁরা জুটি বেঁধেছিলেন। তবে ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যান্থোলজি ছবি ‘দশ কহানিয়া’-র ‘রাইস প্লেট’ নামক একটি ছোট অংশে তাঁদের শেষবারের মতো একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এরপর প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও কোনো পরিচালক বা প্রযোজক তাঁদের একসঙ্গে বড় পর্দায় নিয়ে আসার সাহস বা সুযোগ পাননি। তবে সম্প্রতি পরিচালক শেখর কাপুর তাঁর সাড়া জাগানো ক্লাসিক ছবি ‘মাসুম’-এর সিক্যুয়েল অর্থাৎ ‘মাসুম ২’ তৈরির ঘোষণা করার পর থেকেই নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কবে এবং কোন ছবির মাধ্যমে এই দুই মহারথী ফের বড় পর্দায় কামব্যাক করেন।