ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন সিআর সেভেন? আসন্ন মরশুমই কি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর শেষ লড়াই?

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মুখে কেরিয়ারের অবসরের ইঙ্গিত শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি অনুরাগী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ৪১ বছর বয়সি পর্তুগিজ যুবরাজ ও পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা জানিয়েছেন যে, চলতি মরশুমটিই তাঁর ফুটবল জীবনের শেষ বছর হতে চলেছে। দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে সবুজ ঘেরার মাঠে জাদুকরি পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার পর এবার বুটজোড়া তুলে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আল-নাসের ক্লাবের সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকলেও, তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ফুটবল মহলে এখন থেকেই চরম জল্পনা শুরু হয়েছে। ভোজ বা ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিআর সেভেন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “সম্ভবত এটাই ফুটবলে আমার শেষ বছর, এবং আমি একটি জমকালো উত্তরাধিকার বা স্পেকটাকুলার লেগ্যাসি রেখে যেতে চাই।” প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনা রড্রিগেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ঠিক পরেই এমন বিস্ফোরক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। কেরিয়ারের অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে তাঁর লক্ষ্য এখন এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। পেশাদার ফুটবলে ইতোমধ্যে ৯৭৬টি গোল করে ফেলেছেন তিনি, এই ঐতিহাসিক কীর্তি থেকে তিনি মাত্র ২৪ গোল দূরে রয়েছেন। অমর এই ফুটবলার আরও জানান যে, খেলাধুলা ছেড়ে দেওয়ার পর জীবনের পরবর্তী সময়টা তিনি কীভাবে কাটাবেন, তার একটা সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তিনি ইতিমধ্যেই তৈরি করে রেখেছেন। ফুটবল জীবনের লম্বা শূন্যতা ভরাট করতে পরিবারকে সময় দেওয়া, বিশ্বভ্রমণ করা এবং নিজের পছন্দের প্যাডেল টেনিস খেলাধুলায় সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্পোর্টিং সিপি থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্তাসের মতো ক্লাব পেরিয়ে আল-নাসের পর্যন্ত তাঁর এই রূপকথার পথচলা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ডও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। দেশের হয়ে ইউরো কাপ ও নেশন্স লিগ জিতলেও বিশ্বকাপের অধরা স্বপ্ন নিয়েই হয়তো বুটজোড়া তুলে রাখতে চলেছেন এই লিজেন্ড। তবে ফুটবল মাঠ থেকে সিআর সেভেনের চিরতরে বিদায় নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় মন খারাপ ফুটবলপ্রেমীদের।