ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ? সুস্থ থাকতে কোন যোগাসনে কমবে ডায়াবেটিস ও কোমর ব্যথা?

আধুনিক ও কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার অভ্যাস, কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আজ শহুরে জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলস্বরূপ শরীরে বাসা বাঁধছে একের পর এক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোমর ও পিঠে তীব্র ব্যথা, থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, হাঁপানি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত স্থূলতার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগছেন আট থেকে আশি। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শরীর ও মনকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা চিকিৎসকমহল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিয়মিত যোগা অনুশীলনে রোগমুক্তি: কোন সমস্যায় কোন আসন?

নিয়মিত সঠিক নিয়মে যোগাসন ও প্রাণায়াম অভ্যাস করলে জীবনের বহু জটিল রোগ ও ক্রনিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কোন কোন শারীরিক সমস্যায় কোন আসনগুলি বিশেষ ফলদায়ক, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কপালভাতি প্রাণায়াম, মৎস্যাসন এবং ধনুরাসন অত্যন্ত কার্যকর। এগুলি অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসকে সক্রিয় করে ইনসুলিন উৎপাদনে সাহায্য করে।

  • উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদ: উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত উদ্বেগের সমস্যায় অনুলাোম-বিলোম প্রাণায়াম, শিথিলাসন এবং শবাসন স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

  • কোমর ও পিঠের ব্যথা: দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার ফলে স্পন্ডোলাইসিস বা কোমরের ব্যথায় ভোগেন অনেকেই। তাঁদের জন্য ভুঙ্গাসন, শলভাসন এবং মকটাসন দারুণ ফল দেয়।

  • থাইরয়েড সমস্যা: গলার অংশের থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সর্বাঙ্গাসন এবং উষ্ট্রাসন ভীষণভাবে উপকারী।

  • হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট: ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দূর করতে প্রাণায়ামের পাশাপাশি সূর্য নমস্কার এবং গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বেশ কার্যকরী।

  • স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এবং বিপাক হার (Metabolism) বাড়াতে সূর্য নমস্কার, নৌকাসন ও চক্রাসন নিয়মিত করা উচিত।

যোগা অনুশীলনে কোন কোন ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

যোগব্যায়াম স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যেকোনো গুরুতর শারীরিক জটিলতা, সাম্প্রতিক সার্জারি বা হার্টের সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কঠিন আসনগুলি অভ্যাস করা উচিত নয়। বিশেষ করে মহিলাদের গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট কিছু পর্যায়ে এবং স্পাইনাল কর্ডের মারাত্মক সমস্যা থাকলে কিছু নির্দিষ্ট আসন সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত। ভুল পদ্ধতিতে যোগা করলে উপকারের পরিবর্তে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

বর্তমানের ট্রেন্ড: ফেস যোগা কি সত্যিই ত্বকের বলিরেখা কমায়?

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং সৌন্দর্যচর্চায় দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ফেস যোগা’ বা মুখের ব্যায়াম। বয়সের ছাপ মুছে মুখের ত্বক টানটান রাখতে এবং বলিরেখা দূর করতে এটি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেস যোগা মুখের পেশিগুলিকে সচল ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ত্বকে একটি প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য আসে। তবে রাতারাতি মুখের সমস্ত বলিরেখা মুছে ফেলা বা প্লাস্টিক সার্জারির মতো স্থায়ী ফল পাওয়ার আশা করা ভুল। এটি মূলত মুখের পেশির সুদৃঢ়করণ এবং বার্ধক্যের ছাপ কিছুটা দেরিতে ফেলতে দারুণ সাহায্য করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত জলের পাশাপাশি নিয়মিত ফেস যোগা করলে দীর্ঘমেয়াদে তারুণ্যদীপ্ত ত্বক বজায় রাখা সম্ভব।