কনস্টেবল পরীক্ষায় ফেল! ৬ বছরে ১২টি সরকারি চাকরি পকেটে পুরে কীভাবে আইপিএস হলেন এই কৃষকপুত্র?

দারিদ্র্য, হাজারো প্রতিকূলতা কিংবা প্রাথমিক ব্যর্থতা—কোনো কিছুই যে মানুষের জেদ ও কঠোর পরিশ্রমের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আইপিএস (IPS) অফিসার প্রেম সুখ দেলু। একসময় যে তরুণ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি, আজ তিনি নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি (UPSC) পাস করে আইপিএস অফিসার হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প যেকোনো তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে।

সংগ্রামের দিনগুলি ও কৃষিজীবী পরিবার

রাজস্থানের বিকানের জেলার সুদূর রাইসার গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রেম সুখ দেলুর। অভাবের তাড়নায় সংসার চালাতে তাঁর বাবাকে কৃষিকাজের পাশাপাশি উটের গাড়ি চালাতে হতো। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও ছোটবেলায় সংসারের কাজে বাবাকে সাহায্য করার পাশাপাশি গবাদি পশু চরাতেন তিনি। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহে কখনো ভাটা পড়েনি। তিনি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন, জীবন বদলানোর একমাত্র ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিক্ষা। সরকারি স্কুলেই স্কুলশিক্ষা শেষ করে তিনি ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তাতে গোল্ড মেডেলও লাভ করেন। শুধু তাই নয়, এর পর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ইউজিসি নেট (UGC NET) এবং জেআরএফ (JRF)-ও উত্তীর্ণ হন।

ব্যর্থতাকে জয় করে একের পর এক সরকারি চাকরি

জীবনের শুরুর দিকে বড় একটি ধাক্কা আসে তাঁর জীবনে। রাজস্থান পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি সফল হতে পারেননি। তবে এই ব্যর্থতা তাঁকে দমাতে পারেনি, বরং প্রতিটি পরীক্ষাকে তিনি পরবর্তী লক্ষ্যে পৌঁছনোর সোপান হিসেবে দেখেছেন। এর পরই তাঁর সাফল্যের ধারা শুরু হয়। প্রথমে বিকানেরে পাটোয়ারি হিসেবে চাকরি পান তিনি। এরপর রাজস্থান গ্রাম সেবক পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পাশাপাশি, রাজস্থান পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট জেলার-সহ একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে তাঁর ঝুলিতে আসে মোট ১২টি সরকারি চাকরি।

চাকরি সামলে UPSC-তে বাজিমাত

এতগুলো চাকরি পাওয়ার পরেও নিজের স্বপ্ন থেকে পিছু হটেনি প্রেম সুখ। তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা—UPSC সিভিল সার্ভিসেস। একদিকে সরকারি চাকরির দায়িত্ব এবং অন্যদিকে ইউপিএসসি পরীক্ষার কঠিন প্রস্তুতি—দুটোই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলে গেছেন তিনি। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেই তিল তিল করে নিজের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নিজের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই সাফল্য পান এই অদম্য তরুণ। UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাংক ১৭০ অর্জন করে তিনি সোজা ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-এ যোগ দেন।

প্রেম সুখ দেলুর এই জীবনযুদ্ধ আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, জীবনের প্রথম কোনো পরীক্ষায় ব্যর্থতা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ছোট ছোট সাফল্য, নিরলস পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার পরে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে।