১ কোটি যুবককে এআই প্রশিক্ষণ! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর, কী পরিকল্পনা?

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ভাষণে দেশের যুবশক্তিকে এক উন্নত ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বর্তমান যুগ যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI), তা স্পষ্ট করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো আগামী এক বছরে দেশের ১ কোটি যুবককে এআই দক্ষতায় প্রশিক্ষণ প্রদান।
১ কোটি যুবক কীভাবে পাবে এআই প্রশিক্ষণ?
লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় যুবকদের এগিয়ে রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো এআই-এর ক্ষেত্রে দেশের তরুণদের বিশ্বমানের নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা।
যদিও সরকার এখনও এই প্রশিক্ষণের বিস্তারিত রূপরেখা, নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা আবেদনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবে এর প্রস্তুতি হিসেবে দেশজুড়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কম বয়স থেকেই শিশুদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিচিত করতে সারা দেশে ইতিমধ্যেই ১০,০০০-এর বেশি ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া অভিযানের মাধ্যমে দেশে আড়াই লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে, যা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং
এআই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও বড় স্বস্তির খবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, উচ্চশিক্ষার নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টারের চড়া খরচ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর প্রায়শই বিরাট আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় আর্থিক অনটনের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে।
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং চালুর আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ পরিবারের সন্তানরাও কোনো আর্থিক বাধা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত প্রসার
ভাষণে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের রূপান্তর এবং উন্নতির চিত্রও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে তিনশোর কম ছিল। বিগত বছরগুলিতে প্রায় সাড়ে ছশোটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ায় বর্তমানে মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ১ হাজারে পৌঁছেছে।
একইভাবে, চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে মেডিকেল কলেজের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের আগের প্রায় চারশোটি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে আটশোতে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দেশের ভেতরেই সুলভ করতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতে ক্যাম্পাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশেই থেকে বিশ্বমানের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান।