বিশ্বজয়ের নতুন মন্ত্র! মোদীর ‘শক্তির সপ্তধারা’ কীভাবে বদলে দিতে চলেছে ভারতের ভাগ্য?

চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে এক দূরদর্শী ও ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার সংকল্প নিয়ে তিনি সামনে এনেছেন এক অনন্য রূপরেখা, যাকে তিনি নাম দিয়েছেন ‘শক্তির সপ্তধারা’। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সাতটি স্তম্ভই আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং আত্মনির্ভরতার পথকে সুগম করবে এবং বিশ্বমঞ্চে দেশকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি জানান যে, ডিজাইন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত উৎপাদন পর্যন্ত ভারতকে গ্লোবাল সাপ্লাই চেনের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার তিনটি প্রধান শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি—খরচ বা সাশ্রয়ী মনোভাব (Cost), পণ্যের সর্বোচ্চ মান (Quality) এবং উৎপাদনের বিশাল পরিধি (Scale)। এই তিনের সমন্বয়ে ভারতীয় উৎপাদন শিল্প বিশ্ববাজারে বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত।
‘সপ্তধারা’-র দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উঠে এসেছে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ (Food Processing) খাত। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজার এখন ভারতীয় কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত এবং ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (FTA)-এর মাধ্যমে দেশ এক বিরাট বাজারের নাগাল পাচ্ছে। ফলস্বরূপ, ভারতের ঐতিহ্যবাহী খাবার, মিলেট বা শ্রীঅन्न, মশলা, ফল এবং ফুলগুলোকে আজ গ্লোবাল ব্র্যান্ডে পরিণত করার সময় এসেছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে (Technology & Innovation) তৃতীয় শক্তিরূপে চিহ্নিত করে তিনি জানান যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম টেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা, রোবোটিক্স এবং নেক্সট-জেন যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে ভারতকে একটি গ্লোবাল ইনোভেশন হাব হতে হবে। ইতিপূর্বে ইউপিআই (UPI) এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে ভারত নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে, এবার লক্ষ্য হলো ‘মেড ইন इंडिया’ সিক্স-জি (6G) প্রযুক্তি প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেওয়া।
এই সাতটি ধারার বাকি স্তম্ভগুলোর মধ্যে রয়েছে গতি শক্তি বা আধুনিক পরিকাঠামো, যার মাধ্যমে হাই-স্পিড রেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বন্দরগুলোকে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পূর্ণ আত্মনির্ভরতা অর্জন করে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিফেন্স এক্সপোর্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, সবুজ শক্তি ও ব্লু ইকোনমির প্রসার ঘটানো, এবং যোগ, আয়ুর্বেদ ও সংস্কৃতির হাত ধরে ভারতের সফট পাওয়ারকে বিশ্বজুড়ে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সর্বাঙ্গীন পরিকল্পনা কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিকাশই নিশ্চিত করবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে ভারতের আত্মপ্রকাশকে সুনিশ্চিত করবে।