ভারতের বিরুদ্ধে মারাত্মক হামলার ছক! নোয়াপাড়ার নিরাপত্তারক্ষীকে পাকড়াও করতেই ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাকিস্তান সেনা এবং ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে এক বাঙালি যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ধৃত ২৫ বছর বয়সী আসাফুল মল্লিকের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নোয়াপাড়া গ্রামে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর জিগনি এলাকা থেকে সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ ও নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগে আসাফুলকে পাকড়াও করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আসাফুল জিগনির এপিসি সার্কেলের কাছে বসবাস করতেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে জিগনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার ‘টাটা অ্যাডভান্সড লিমিটেড’-এ একজন নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির এমন জঙ্গি যোগের তথ্য সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছেন তদন্তকারীরা।

গোপন সূত্রে সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর পাওয়ার পর পুলিশ আসাফুলকে হেফাজতে নিয়ে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের দাবি, জেরায় আসাফুল স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তানে মুসলমানদের ওপর পাকিস্তানি সেনার নির্যাতন এবং মসজিদ ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর পাশাপাশি, ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতিও তিনি সমর্থন জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁকে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছিল বলেও পুলিশের দাবি।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, আসাফুল ফেসবুকের মাধ্যমে ‘ইমরান হায়দার’ নামে আফগানিস্তানের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন। মনে করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP)-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আসাফুল আফগানিস্তানে পাড়ি দেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তির সাহায্য চেয়েছিলেন এবং ভিসার জন্য আবেদনও করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে চরম আর্থিক অনটন এবং পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব মাথায় থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ আসাফুলের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষা শুরু করেছে। ফোন থেকে টিটিপি যোগের একাধিক চ্যাট, ভয়েস কল এবং অডিও বার্তার রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ওই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আসাফুলের ঠিক কতখানি যোগাযোগ ছিল এবং এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার হওয়া তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।