তীব্র কম্পনে ধসে পড়ল বহু বাড়ি! রক্তিম ভোরে ইন্দোনেশিয়ায় প্রলয়ঙ্কারী ভূকম্পনের পরই জারি লাল সতর্কতা

ইন্দোনেশিয়ায় ফের এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা। শনিবার ভোরে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। হঠাৎ এই তীব্র ভূকম্পনের ফলে গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যেই প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ায় শত শত frightened বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় ছুটে আসেন। কম্পনের তীব্রতায় একাধিক আবাসন ও বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এই শক্তিশালী ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এমবে থেকে মাত্র ৩৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে। মূল ভূকম্পনের ঠিক পরেই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬.১। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে, বিএমকেজি-র তরফে তৎক্ষণাৎ সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সংস্থার ডিরেক্টর উইজায়ান্তো জানান যে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে মারাত্মক সুনামি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত বিশাল দ্বীপপুঞ্জ ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ঠিক উপরে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে ঘন ঘন তীব্র ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। এর আগেও ইন্দোনেশিয়ার মাটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে। ২০০৪ সালের বিধ্বংসী ৯.১-মাত্রার কম্পন এবং তার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তাছাড়া ২০১৮ সালেও লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান এই সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও সরকারের তরফে প্রকাশ করা না হলেও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।