রাজ্যে অবশেষে চালু ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’! ছাত্রীদের অনুদান এক হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে দু’হাজার টাকা

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন রাজ্যের নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ করল সরকার। শুক্রবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘কন্যা রত্ন দিবসে’র বিশেষ মঞ্চ থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্প। একই সঙ্গে ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে দুই হাজার টাকা করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে নারী শিক্ষা, সুরক্ষা এবং স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে একাধিক নতুন প্রকল্পের সূচনা করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ‘পালনা’ প্রকল্প এবং মহিলাদের আপৎকালীন সহায়তার জন্য বিশেষ ‘১৮১’ হেল্পলাইন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা রায় এবং পূর্ণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নারী অধিকার রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার জন্য বিশেষ সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্যে নারী শিক্ষার পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার আদর্শের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজনৈতিক কারণে এতদিন রাজ্যে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্প চালু করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দেশের অন্যান্য রাজ্যে আগেই চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গ এতদিন এর বাইরে ছিল। নতুন সরকার সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজ্যের মেয়েদের উন্নয়নে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল।
মেয়েদের পড়াশোনা যাতে অর্থাভাবে মাঝপথে থেমে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। চলতি বছরে মোট ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে। এর মধ্যে স্কুলগুলির যাচাই প্রক্রিয়া শেষে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে চারশো কোটি টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, বাজেটে ঘোষিত ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে, যাতে উচ্চশিক্ষায় কোনও বাধা না আসে।
পাশাপাশি, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দের নামে একশো কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এই তহবিল থেকে ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় সফল হয়ে দেশের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিদেশে চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষায় সুযোগ পাওয়া ছাত্রীরা আর্থিক সাহায্য পাবেন।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কন্যা রত্ন দিবসের এই অনুষ্ঠান থেকে সরকারের মূল বার্তা স্পষ্ট—মেয়েদের পড়াশোনা বা স্বপ্ন কোনওটাই অর্থের অভাবে থমকে থাকবে না। শিক্ষা, সুরক্ষা ও স্বনির্ভরতার পথে কন্যাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।