পিএম-ধারা প্রকল্পের ধামাকা! ১.৮৬ লক্ষ কোটির মেগা প্ল্যানে দেশের জ্বালানি খাতে আসছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন

দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে এবং সবুজ শক্তির পরিধি আরও প্রসারিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশাল অংকের ‘পিএম-ধারা’ (PM-DHARA) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ১.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রিড ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

কী এই পিএম-ধারা প্রকল্প?

‘পিএম-ধারা’-র পুরো নাম হলো ‘পিএম-ডেভেলপিং হারমোনাইজড অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেটেড রিনিউয়েবল-এনার্জি অ্যাক্সেস’ (PM-Developing Harmonized and Accelerated Renewable-energy Access)। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ভারত সরকার নির্ধারণ করেছে, এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে ১৩৫ গিগাওয়াট (GW) পর্যন্ত নবায়নযোগ্য শক্তি সুচারুভাবে সঞ্চালনের জন্য ভারতের আন্তঃরাজ্য সঞ্চালন ব্যবস্থাকে (InSTS) বহুগুণ শক্তিশালী করা হবে।

ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) এবং অন্যান্য সুবিধা

নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর অনিয়মিত সরবরাহ এবং গ্রিডের যানজট। এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের জন্য পিএম-ধারা প্রকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • এই প্রকল্পের আওতায় নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশকারী বা উৎপাদনকারীর প্রান্তে কিংবা গ্রিডের নমনীয়তার জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে ৫০ গিগাওয়াট-ঘণ্টার (GWh) ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) স্থাপন করা হবে।

  • এর ফলে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গ্রিডের যানজট এবং সৌরশক্তি-বহির্ভূত সময়ের শক্তির চাহিদার মতো জটিল সমস্যাগুলো সহজেই দূর করা সম্ভব হবে।

  • প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রিড একীকরণ প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজতর করবে।

১.৮৬ লক্ষ কোটির বিশাল বাজেট ও লক্ষ্যমাত্রা

আগামী ২০৩২-৩৩ অর্থবর্ষের মধ্যে এই পুরো প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৮৬,৪০৫ কোটি টাকা। এর সম্পূর্ণ হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

  • আন্তঃরাজ্য সঞ্চালন ব্যবস্থা (InSTS) উন্নয়ন: এই খাতে ১,৩৬,৩৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS): ৫০ গিগাওয়াট-আওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন এই ব্যবস্থার জন্য রাখা হয়েছে ৫০,০০০ কোটি টাকা।

  • এই পুরো প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৫৪,০৮২ কোটি টাকার বিশাল কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি পরিকাঠামো এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্র—সবকিছুর জন্যই অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হবে।