আরজি কর কাণ্ডে গ্রেফতার দাপুটে তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষ! পুরীর হোটেল থেকে কীভাবে জালে এল?

আরজি কর কাণ্ডে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হলো পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষকে। আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার তদন্তেই বড় সাফল্য পেল পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মূলত তিনটি প্রধান কারণে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে:
তড়িঘড়ি দেহ সৎকার: নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, শোকের মুহূর্তে তাঁদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে এবং অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন নির্মল ঘোষ। গোটা প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয় এবং রহস্যজনক।
তথ্য-প্রমাণ লোপাট: তদন্তকারীদের দাবি, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত যাতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পুরো প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছিলেন তিনি। পানিহাটি শ্মশানে দাহকার্যের সিরিয়াল নম্বর রাতারাতি বদলে ফেলা থেকে শুরু করে পরিবারের নিকটাত্মীয়ের স্বাক্ষর ছাড়া সৎকার সম্পন্ন করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
প্রভাব খাটানো: তৃণমূল আমলে এলাকায় দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত নির্মল ঘোষ নিজের প্রভাব খাটিয়ে গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
কীভাবে ধরা পড়ল নির্মল? নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই গা ঢাকা দিয়েছিলেন নির্মল। পুলিশের নজর এড়াতে নিজের পুরনো ফোন বন্ধ রেখে নতুন সিম ও ফোন ব্যবহার করছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাঁর টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।
নির্মলের এই গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা। কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন সিবিআই তদন্তের সময় কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি? তবে সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো বিজেপি নেতারা এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পানিহাটি শ্মশানে দাহকার্যের অনিয়ম নিয়ে কড়া অভিযোগ করেছিলেন, যার ভিত্তিতেই এই নতুন মোড় নিল আরজি কর কাণ্ড।