হাইকোর্টে ধুন্ধুমার! ‘চটিচাটা-বুটচাটা’ মন্তব্যে জড়িয়ে পড়লেন এজি ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

কলকাতা হাইকোর্টে মসজিদের মাইক খোলা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক আক্রমণাত্মক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরুপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার সওয়াল-জবাব চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। শুনানি চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এজলাসের মধ্যেই ‘চটিচাটা’ বলে কটাক্ষ করেন এজি। এর জবাবে পিছপা হননি কল্যাণও, তিনিও পাল্টা অ্যাডভোকেট জেনারেলকে ‘বুটচাটা’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান।

দুই আইনজীবীর এই বেনজির দ্বন্দ্বে এজলাসের পরিবেশ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সংযত হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের ব্যক্তিগত কোন্দল যেন আদালতের বাইরে গিয়ে মেটানো হয়, এজলাসের পবিত্রতা নষ্ট না করে। এই গোলমালের মাঝেই রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আচরণকে টেনে এনে মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের অশোভন আচরণের জন্যই লোকসভার স্পিকার তাঁকে সংসদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। এর জবাবে কল্যাণ পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্যই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

মূল মামলার বিষয়বস্তু অনুযায়ী, মামলাকারী দানিশ ফারুকির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন যে, রাজ্যজুড়ে নতুন এক ট্রেন্ড শুরু হয়েছে যেখানে কোনো লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই মৌখিক আদেশে পুলিশ বিভিন্ন মসজিদ থেকে চার হাজারের বেশি মাইক জোরপূর্বক খুলে নিয়েছে। অথচ কলকাতা হাইকোর্টের পূর্বের ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, নির্দিষ্ট ডেসিবেলের মধ্যে মাইক বাজানো বৈধ। টেলিফোন করে ইমামদের হুমকি দিয়ে মাইক বন্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং এর পেছনে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির গভীর চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হুগলির চাঁপদানি ও শ্রীরামপুরের নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার উদাহরণও টেনেন তিনি।

এর তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতকে জানান যে, মামলার জোরালো ভিত্তি না থাকায় এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাব থাকায় এই পিটিশনটি জরিমানা সহ খারিজ করে দেওয়া উচিত। তাঁর প্রশ্ন, কোন কোন পুলিশ অফিসার বা কোন নির্দিষ্ট মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে, তার লিখিত অভিযোগ বা নির্ভরযোগ্য নথি কোথায়? হাওয়ায় ভাসমান অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যকে জবাব দিতে বাধ্য করা যায় না। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল শোনার পর আদালত আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে রাজ্যের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে।