ডে-কেয়ার সেন্টারে রক্তগঙ্গা! ঘুমন্ত শিশুদের সামনেই স্ত্রী ও ৭ বছরের মেয়েকে কুপিয়ে খুন!

আমেরিকার মিনেসোটা প্রদেশের হপকিন্স এলাকায় ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রথমে তার স্ত্রী এবং ৭ বছরের কচি কন্যাসন্তানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এখানেই শেষ নয়, এরপর সে ৭ জন এক আত্মীয়কেও খুন করে এবং পরিশেষে নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এই ভয়াবহ ঘটনাটি এমন একটি জায়গায় ঘটে যার নিচে বা একই প্রাঙ্গণে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হতো।
ঘটনার দিন মর্মান্তিক এই তাণ্ডবের সময় ওই বাড়িতে অবস্থিত ‘ব্রাউন বিয়ার চাইল্ডকেয়ার’-এ বেশ কয়েকটি নিষ্পাপ শিশু উপস্থিত ছিল। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে স্বস্তির খবর হলো, সেই ভয়াবহ মুহূর্তের মধ্যেও ডে-কেয়ারে থাকা অন্য ৬ জন শিশু সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছে। হপকিন্সের পুলিশ প্রধান ব্রেন্ট জনসন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এক অভিভাবক যখন তার সন্তানকে নিরাপদে ডে-কেয়ারে রেখে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বেসমেন্টের ভেতরে এই বীভৎস হামলার দৃশ্য তার চোখে পড়ে। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুলিশে খবর পাঠান। শোকস্তব্ধ পুলিশ প্রধান বলেন, “একজন বাবা বা মা যখন বিশ্বাস করে নিজের সন্তানকে কোথাও রেখে আসেন এবং তারপর এমন এক রক্তক্ষয়ী ঘটনার মুখোমুখি হন, এর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি আর কিছু হতে পারে না। শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ভীতিকর ও মানসিক আঘাতের দিন।”
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, হপকিন্সের এই ঘটনার সঙ্গে আরও একটি মর্মান্তিক অপরাধ যোগ রয়েছে। হপকিন্স থেকে প্রায় ২০ মাইল (৩২ কিলোমিটার) দূরে বার্নসভিল এলাকার আরেকটি বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। সেখানে এক প্রবীণ মহিলার রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যাঁর শরীরেও বহুবার ছুরির কোপ বসানো হয়েছিল। বার্নসভিলের পুলিশ প্রধান ম্যাট স্মিথ নিশ্চিত করেছেন যে এই দুটি ঘটনার মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। ওই প্রবীণ মহিলা আসলে সেই আত্মীয়েরই পরিবারের সদস্য ছিলেন, যাঁকে ওই ৪1 বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে আক্রমণ করেছিল। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুই এলাকার পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং এই পৈশাচিকতার পেছনের আসল রহস্য উন্মোচন করতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরাও এই ভয়াবহতা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন। এলাকার এক নার্স আমান্ডা মার্কস জানান, প্রথমে তারা বুঝতে পারেননি যে ভেতরে ঠিক কী ধরনের তাণ্ডব চলছে। কিন্তু পুলিশকে যখন জোর করে বাড়ির সামনের দরজা ভাঙার চেষ্টা করতে দেখা যায়, তখনই তাদের মনে চরম আতঙ্ক দানা বাঁধে। তিনি আরও জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত পিছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পরে ক্রাইম সিন টেপ এনে চারপাশ ঘিরে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ অফিসারদের শিশুদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনতে দেখা যায়। এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি শিশুকে কোলও করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন। হপকিন্স পুলিশ প্রধানের কণ্ঠেও এই ঘটনার ভয়াবহতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। তিনি জানান, তাদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এত ভয়ংকর দৃশ্য কখনও দেখেনি। ঘটনাস্থলের ভেতরের দৃশ্য দেখে খোদ পুলিশ অফিসাররাও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।