১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার সর্বস্বান্ত প্রতারণা! অবসাদে অষ্টম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বিখ্যাত চিকিৎসকের!

উত্তর প্রদেশের গোরখপুর জেলা থেকে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে সাইবার প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে ৫২ বছর বয়সি এক প্রখ্যাত পশুচিকিৎসক নিজের অ্যাপার্টমেন্টের অষ্টম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এবং মৃত চিকিৎসকের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে এক মহিলা প্রতারকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হয়রানি ও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত চিকিৎসকের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত চিকিৎসকের নাম ডা. পরমাত্মা সিং (৫২)। তিনি মূলত উত্তর প্রদেশের মৌ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং বর্তমানে মহারাজগঞ্জ জেলার নওতনওয়া এলাকায় পশুচিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে গোরখপুরের গোরখনাথ থানা এলাকার রাজেন্দ্র নগর কলোনির ‘বসন্ত এনক্লেভ’ অ্যাপার্টমেন্টের দ্বিতীয় তলায় সপরিবারে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে প্রাত্যহিক কাজকর্ম ও সকালের নাস্তা সেরে তিনি ঘর থেকে বের হন। এরপর হাঁটাহাঁটি করার অজুহাতে তিনি ওই বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের একেবারে ওপরের অর্থাৎ অষ্টম তলায় চলে যান এবং সুযোগ বুঝে হঠাৎ নিচে ঝাঁপ দেন।

পড়িমরি করে ছাদ থেকে মাটিতে পড়ার বিকট শব্দ শুনে মুহূর্তের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর তাঁর স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে গোরখনাথ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তল্লাশির সময় মৃত ডাক্তারের পকেট থেকে এক পাতার একটি চাঞ্চল্যকর সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নোটে তাঁর মৃত্যুর জন্য সরাসরি গরিমা সিং নামের এক মহিলাকে দায়ী করা হয়েছে।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে যে, পিএইচডি ডিগ্রিধারী এক নারী ও তাঁর পরিবার মিলে অত্যন্ত সুকৌশলে ডা. পরমাত্মা সিংয়ের কাছ থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। সাহাজনওয়ান রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট ধ্রুব নারায়ণ সিং, তাঁর পিএইচডি ডিগ্রিধারী কন্যা গরিমা সিং এবং জামাই মিলে একটি শক্তিশালী চক্র তৈরি করে ডাক্তারবাবুকে জালে জড়িয়েছিল। বিশাল অঙ্কের এই অর্থ খুইয়ে এবং অভিযুক্তদের লাগাতার প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে ডা. পরমাত্মা সিং চরম মানসিক অবসাদ ও বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। বাধ্য হয়ে তিনি গত ৫ আগস্ট গোরখপুরের এইমস থানায় গরিমা সিং, তাঁর বাবা ও স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্ত বাবা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওই চিকিৎসক। মর্মান্তিক এই সংবাদ পেয়ে মৌ জেলা থেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে গোরখপুরে ছুটে আসেন মৃতের বৃদ্ধ বাবা-মা। পুলিশ পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।