নৈহাটির বড়মা মন্দিরে বিরাট বদল! নতুন কমিটির মাস্টারপ্ল্যানে ভক্তদের জন্য থাকছে কোন কোন চমক?

ভক্তদের ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে সেবামূলক কাজের পরিধি বিস্তার—সব দিক মাথায় রেখে এবার বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল নৈহাটির ঐতিহাসিক বড়কালী পুজো কমিটি। সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ২১ সদস্যের একটি নতুন ট্রাস্ট। পুরনো ও অভিজ্ঞ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মুখের সমন্বয়ে তৈরি এই কমিটি বড়মার মন্দিরের জনপ্রিয়তাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভক্তদের সুবিধার জন্য একাধিক যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কারা রয়েছেন নতুন কমিটিতে?
২০২৬ সালের এই নতুন ট্রাস্ট বা পরিচালন সমিতির শীর্ষ পদে আনা হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।
সভাপতি: এই পদের দায়িত্ব নিয়েছেন চিকিৎসক ডা. এইচ এস পাঠক।
সহ-সভাপতি: সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন মদন বিশ্বাস।
সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক: সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে তাপস ভট্টাচার্য-কে এবং যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমল কুমার ঘোষ-কে।
উপদেষ্টা কমিটি: এছাড়া মন্দির পরিচালনার সার্বিক স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ৮ জনের একটি শক্তিশালী অ্যাডভাইজারি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ভক্তদের জন্য কী কী নতুন পরিকল্পনা রয়েছে?
বড়মা মন্দিরের মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভক্তদের সুযোগ-সুবিধাকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সুষ্ঠু দর্শন ব্যবস্থা: দেশের কোণ থেকে আসা দর্শনার্থীরা যাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পুজো দিতে পারেন, তার জন্য বিশেষ নজরদারি কমিটি গঠনের কথা ভাবা হয়েছে।
জনসেবা ও চিকিৎসা: বড়মার নিত্যপুজো ও সেবার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও বৃহত্তর আকারে ছড়িয়ে দিতে দাতব্য চিকিৎসালয়টিকে আরও বড় ও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভোগের পরিসর বৃদ্ধি: ভক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে বড়মার প্রসাদ বা ভোগের ব্যাপ্তি বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে নতুন কমিটি।
আর্থিক স্বচ্ছতা ও বিতর্কে ইতি টানার বার্তা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী মন্দির কমিটির আর্থিক স্বচ্ছতা এবং কাজকর্মে নানাবিধ প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠছিল। সেই সমস্ত জল্পনা ও বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুরনো সমস্ত বিতর্ককে পিছনে ফেলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখাই নতুন কমিটির প্রধান লক্ষ্য।
এবার থেকে পুজোর সমস্ত অনুদান পুরোপুরি ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি মায়ের গয়না ও অনুদানের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব স্বচ্ছ রাখতে প্রতি সপ্তাহে মন্দিরের দেওয়ালে তা টাঙিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নতুন ট্রাস্ট।