দিনে ১৬ ঘণ্টাও থাকছে না বিদ্যুৎ! বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের আসল কারণ কী?

তীব্র গরমের মধ্যে গ্যাস সঙ্কট এবং রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিংয়ের জেরে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—কোনো নির্দিষ্ট সময় ছাড়াই লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। কোথাও কোথাও দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কঠোর পদক্ষেপ করল সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ অগাস্ট) থেকে দেশজুড়ে রাত ৮টার মধ্যেই সমস্ত শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারি নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
বুধবার (১২ অগাস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের উপসচিব মামুন ভুইঁয়া স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়েছে।
সময়সীমা: আগামী ১৩ অগাস্ট থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। অর্থাৎ রাত আটটার পর সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।
বিলবোর্ড ও মেলা বন্ধ: সারাদেশে যেকোনো প্রকার বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত ধরনের মেলা, রাতের অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ছাড়প্রাপ্ত ক্ষেত্র: তবে এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান এবং হাসপাতালগুলিকে।
বিদ্যুৎ সঙ্কটের নেপথ্যে কোন কারণগুলি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত আমদানি নির্ভরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে:
এলএনজি ও কয়লার সঙ্কট: মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি বড়পুকুরিয়ার মতো বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে।
আমদানি হ্রাস: বাংলাদেশের ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৫ শতাংশের বেশি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আদানি গ্রুপ থেকে আগে যেখানে প্রায় ১৪৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসত, তা কমে এখন ১০১৩ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব: চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ ব্যাহত হয়, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতির ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা এবং জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা।