অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! কবে হাতে পাবেন বর্ধিত বেতন? সরকারের জবাবে তোলপাড়

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Central Pay Commission) তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য গঠনের তারিখ থেকে নির্দিষ্ট ১৮ মাসের সময়সীমা পেলেও, সরকার এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি যে প্যানেলটি নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে কি না। দেশের প্রায় ৭০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী অধীর আগ্রহে বেতন, ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত সুপারিশগুলির জন্য অপেক্ষা করছেন। এই আবহে সম্প্রতি সংসদের উভয় কক্ষেই বিষয়টি নিয়ে বড় আপডেট সামনে এসেছে।

গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে এই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল এবং বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি লোকসভায় এক লিখিত জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানান যে, কমিশন “গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ পেশ করবে”। সরকার আরও জানিয়েছে যে, কমিশন এখনও তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়নি। অষ্টম বেতন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার এই সময়সীমাটি ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায়।

সংসদে দেওয়া সর্বশেষ জবাবে ১৮ মাসের এই নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। রাজ্যসভাতেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন সাংসদ নীরজ শেখর, যেখানে তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই সুপারিশ জমা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে কি না। উত্তরে পঙ্কজ চৌধুরী পুনরায় ৩ নভেম্বর ২০২৫-এর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেননি। তবে মূল সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে সুপারিশ আগেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে কমিশন চাইলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিতেই পারে।

এদিকে, কমিশনের সুপারিশগুলি ঠিক কোন তারিখ থেকে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়েও সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা করেনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫.৭৭ লক্ষ। পাশাপাশি, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৩.৭৬ লক্ষ, যার মধ্যে অবশ্য প্রতিরক্ষা বিভাগের পেনশনভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ এই বেতন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর সরাসরি নির্ভর করে রয়েছেন।

বর্তমানে কমিশন বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন, পেনশনভোগী সমিতি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে জয়পুর, চেন্নাই, পুদুচেরি ও চণ্ডীগড়ে সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, গত ১১ আগস্ট কমিশন পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকায় আংশিক পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত শ্রেণিবিভাগের মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কনসালট্যান্ট এবং ইয়াং প্রফেশনালদের রাখা হয়েছে, যারা মানবসম্পদ, আইনি গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডেটা বিশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করবেন। সুতরাং, বেতন ও পেনশনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার জন্য কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কমিশনের আলোচনা ও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।