টাকা ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে? অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পেতে লাগবে এই শর্তগুলি!

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জল্পনা এবং বিভ্রান্তির মাঝেই এবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মাবলী অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিল প্রশাসন। অনেকেই ফর্ম ফিলাপ করে আবেদন করা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের এই ক্রমবর্ধমান কৌতূহল ও বিভ্রান্তি দূর করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঠিক কোন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার এই আর্থিক সহায়তা। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত অভাবগ্রস্ত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই যাতে সরকারি সাহায্য পৌঁছায়, তার জন্যই এই কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও সবথেকে বড় শর্ত হলো আবেদনকারী মহিলার মাসিক আয়। যে সমস্ত মহিলাদের নিজস্ব মাসিক পারিবারিক বা ব্যক্তিগত আয় ১০ হাজার টাকার কম, শুধুমাত্র তাঁরাই এই প্রকল্পের কড়কড়ে ৩ হাজার টাকা সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার অধিকারী হবেন। এর পাশাপাশি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে। যদি কোনো আবেদনকারী মহিলা ইতিমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি সামাজিক সুরক্ষা বা কল্যাণমূলক প্রকল্পের আর্থিক সুবিধার আওতাভুক্ত থাকেন, তবে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার এই টাকা পাবেন না। অর্থাৎ, অন্য কোনো প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত থাকলে এই নতুন যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
পাশাপাশি বয়সের কথা মাথায় রেখে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বয়স্ক ও দুস্থ মহিলাদের ওপর। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিধবা মহিলারা যাতে এই যোজনার আওতায় সহজে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন, সেই বিষয়েও পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই উপভোক্তা নির্বাচনে সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে কিছু কঠোর শর্ত ও সিলিংও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে যেসব পরিবারের বা আবেদনকারীদের ৩টির বেশি পাকা বাড়ি রয়েছে, তাঁরা কোনো মতেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, যদিও গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ছাড়ের সংস্থান রাখা হয়েছে। এছাড়া শহরাঞ্চল বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় যদি কারোর নামে ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি বা জমানি সম্পত্তি থাকে, তবে তাঁরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। তাই সমস্ত নিয়মকানুন ও শর্তগুলি ভালোভাবে খতিয়ে দেখে তবেই আবেদন করার এবং অপেক্ষার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।