হাতি দিবসে বড়সড় বার্তা বিশেষজ্ঞদের, অবিলম্বে আইনি স্বীকৃতি না দিলে উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ রূপ নেবে হাতি-মানুষের সংঘর্ষ!

আজ বিশ্ব হাতি দিবস। সারা বিশ্বজুড়ে যখন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে উঠে এল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়ংকর কিছু তথ্য। একদিকে যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হাতির সংখ্যা, অন্যদিকে তেমনই আশঙ্কাজনকভাবে সঙ্কুচিত ও খণ্ডিত হয়ে পড়ছে বনের পরিধি। এর জেরে বর্তমানে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে হাতির অস্তিত্ব এক গভীর সঙ্কটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

করিডোর অবরুদ্ধ ও রুট বদল

বন দফতর ও বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের জঙ্গলের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে হাতির সংখ্যা। এর জেরে পর্যাপ্ত বাসস্থান ও খাদ্যের তীব্র সঙ্কটে পড়ে হাতিগুলি তাদের চিরাচরিত চলাচলের পথ বা করিডোর বদল করতে বাধ্য হচ্ছে।

  • উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গলে এখন নতুন করে একাধিক মুভমেন্ট রুট ও সাব-করিডোর তৈরি করছে হাতিরা।

  • হাতির এই আচরণগত পরিবর্তনের ফলে তাদের মেজাজ অনেক বেশি খিটখিটে ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে।

  • বিশেষজ্ঞদের প্রবল আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী দিনে জঙ্গল লাগোয়া মানববসতিগুলিতে মানুষ ও হাতির সংঘাত আরও বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও করণীয়

এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন পশু ও পরিবেশপ্রেমী বিশেষজ্ঞরা:

  1. আইনি স্বীকৃতি: হাতি চলাচলের চিরাচরিত করিডোরগুলিকে অবিলম্বে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে।

  2. বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা: উত্তরবঙ্গে বর্তমানে যে নতুন মুভমেন্ট রুট ও সাব-করিডোরগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলির দ্রুত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

  3. সুরক্ষা বৃদ্ধি: জঙ্গল ও মানববসতির সীমানায় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে, যাতে বন্যপ্রাণী ও সাধারণ মানুষ উভয় পক্ষই সুরক্ষিত থাকতে পারে।