আইপিএলের মেগা দলবদলে বিরাট নাটক! মুম্বই ছেড়ে পুরোনো দলেই ফিরতে চেয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া?

২০২৭ সালের আইপিএল নিলামের আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ক্রিকেট মহলে জল্পনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, হার্দিক নাকি তাঁর পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি গুজরাট টাইটান্সে ফিরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দলবদল আর বাস্তবায়িত হয়নি। এই হাই-প্রোফাইল চুক্তি আটকে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট শর্ত, যা নিয়ে এখন ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল চর্চা চলছে।

প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাট টাইটান্স ম্যানেজমেন্ট হার্দিককে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিতে যথেষ্ট আগ্রহী ছিল এবং বর্তমান অধিনায়ক শুভমন গিলের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, শুভমন এতে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও আসল বিপত্তি বাধে অন্য জায়গায়। হার্দিক শর্ত দেন যে, তাঁকে দলে ফিরিয়ে পুনরায় অধিনায়কের দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান দলগত ভারসাম্য ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গুজরাট টিম ম্যানেজমেন্ট এই প্রস্তাবে একবাক্য রাজি হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নিজের প্রথম অধিনায়কত্বেই কোচ আশিস নেহরার সঙ্গে সফল জুটি গড়ে গুজরাট টাইটান্সকে প্রথমবারই চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন হার্দিক। এমনকি ২০২৩ সালেও তাঁর দাপুটে নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষদিকে সকলকে চমকে দিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হার্দিককে ট্রেড করে ফিরিয়ে আনে এবং রোহিত শর্মার জায়গায় তাঁকে ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত দলের অন্দরে মারাত্মক ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। মুম্বইয়ের প্রায় প্রতিটি হোম ম্যাচেই দর্শকদের রোষানলে পড়ে বুকিং ও সমালোচনার শিকার হন হার্দিক। মাঠের পারফরম্যান্সও তলানিতে গিয়ে ঠেকে। ২০২৩ থেকে ২০২৬—এই চার বছরের দীর্ঘ সময়ে মুম্বই মাত্র একবারই প্লে-অফের যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছিল। স্বয়ং হার্দিকের ব্য়াটেও রান ছিল না, প্রতি মরশুমেই তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ২৫-এর নিচে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শুভমন গিল ইতিমধ্যেই ভারতীয় জাতীয় দলের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এমন অবস্থায় গুজরাট ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষে শুভমনকে সরিয়ে হার্দিককে পুনরায় অধিনায়ক করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। এই কারিগরি ও নেতৃত্বজনিত কারণেই শেষ পর্যন্ত পুরো চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের আইপিএল মরশুমে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই শোচনীয়ভাবে হেরে গিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে ৯ নম্বরে শেষ করেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এর ফলে আগামী মরশুমে মুম্বই শিবিরে হার্দিক পান্ডিয়াকে ধরে রাখা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, কলকাতা নাইট রাইডার্স, চেন্নাই সুপার কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের মতো হেভিওয়েট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি নাকি তারকা এই অলরাউন্ডারকে দলে টানতে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে শেষ পর্যন্ত কোন দলের জার্সিতে মাঠে নামেন হার্দিক।