‘সহজে মোক্ষ মেলে না!’ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক মন্তব্য মোদির

সহজে মোক্ষপ্রাপ্তি হয় না এবং সফল হওয়ার কোনও শর্টকাট রাস্তা নেই। রিল ও সোশ্যাল মিডিয়ার এই আধুনিক যুগেও এই বাস্তব সত্যটি মনে রাখতেই হবে। বুধবার রাজধানী দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী ‘Triumph of the Indian Republic: My Life, My Struggles’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের যুবসমাজকে ঠিক এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দ্ব্যর্থহীন পরামর্শ, আজকের তরুণ প্রজন্মের উচিত রিল স্ক্রলিংয়ের মোহ ত্যাগ করে আরও বেশি করে আত্মজীবনীমূলক বই পড়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের সংকল্পে অবিচল থাকলে এবং অটল থাকলে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ও বাধা অতিক্রম করে একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছাতে পারেন, তার জীবন্ত উদাহরণ হলেন রামনাথ কোবিন্দ। দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরও যেভাবে তিনি ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ ধারণার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন, তার উচ্চ প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার পেছনে কোবিন্দের এই বলিষ্ঠ ভূমিকা অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই প্রসঙ্গেই তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি মজবুত করে তুলতে দেশের যুবসমাজকেও সমানভাবে সচেষ্ট হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সফল মানুষের জীবন ঘাঁটলে দেখা যায় তাঁরা জীবনে বহুবার চরম প্রতিবন্ধকতা সহ্য করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হয়েছেন। মানুষের এই সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস থেকেই তরুণদের অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী জোরালোভাবে বলেন, আগামী দিনে দেশের এমন তরুণ-তরুণী প্রয়োজন, যাঁরা পরবর্তীতে একেকজন কোবিন্দ হয়ে উঠবেন। জীবনের চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক না কেন, তার কাছে হার না মেনে সমস্ত বাধাকে পরাজিত করে সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির জীবনের লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করে মোদি জানান, খুব কম বয়সে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিজের মাকে হারিয়েছিলেন রামনাথ কোবিন্দ। এই মর্মান্তিক ঘটনা তাঁর গোটা জীবনকে চিরতরে তছনছ করে দিতে পারত। কিন্তু তিনি চরম হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। বরং জীবনসংগ্রামের কঠিন লড়াইয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও প্রবল হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, অতীতে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল জেন জি বা আজকের তরুণ প্রজন্ম। তাঁদের প্রচণ্ড চাপের মুখেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই সময় থেকেই দেশের তরুণ-তরুণীদের মন জয় করতে এবং তাঁদের আরও কাছে টানার একাধিক রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক রিল পোস্ট করে যুবসমাজকে পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদেরও রিল ভিডিও পোস্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এবার, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বহুল প্রতীক্ষিত আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ থেকেও দেশের সেই জেন জি প্রজন্মকেই লক্ষ্য করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।