দক্ষিণবঙ্গে আকাশ ভেঙে নামল মৃত্যু! পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন ৪, আহত অন্তত ৮

দক্ষিণবঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে চলা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং লাগাতার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া জেলা। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ করে আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হয়। আর সেই সময়ই একাধিক জায়গায় পরপর বজ্রপাতের ঘটনায় চারজন সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বুধবার মৃতদের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর জেলাজুড়ে শুরু হওয়া বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় কৃষিকাজ ও পশুপালনের কাজে যুক্ত প্রান্তিক মানুষরাই মূলত এই প্রাকৃতিক আক্রোশের শিকার হয়েছেন। পুরুলিয়ার জয়পুর থানা এলাকার একটি মাঠে যখন মহিলারা ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন, সেই সময়ই সেখানে বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন মহিলা শ্রমিক আহত হন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সুনীতা গোপ (৫০) নামে এক মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি জয়পুর থানার তালমু গ্রামে। এই ঘটনায় আহত বাকি শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বলরামপুর থানা এলাকার রাঙ্গাডি গ্রামে মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন গৌর গরাই (৭০) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি। অপর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আড়শা থানা এলাকার লছমনপুর গ্রামে। সেখানে মাঠ থেকে ছাগল চরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ভারতী মাহাতো (৫১) নামের এক মহিলার এবং আহত হন জবা মাহাতো নামে অপর এক নারী। এছাড়াও একই থানা এলাকার কাঞ্চনপুর গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে শচীনাথ মাহাতো (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ওই একই গ্রামে বিকাশ মুদি নামের আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। আড়শা থানার পলপল গ্রামে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন সম্পর্কে এক মা ও মেয়ে এবং হেঁটজাড়ি গ্রামের আরও এক ব্যক্তি এই আকস্মিক দুর্যোগের কবле পড়ে আহত হয়েছেন।
এদিন শুধুমাত্র আড়শা থানা এলাকা থেকেই দুই জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং আহত হয়েছেন মোট পাঁচজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের প্রত্যেকেই বর্তমানে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁদের ওপর বিশেষ নজর রাখছেন। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আবহাওয়া দফতর আগেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল, কিন্তু এত বড় প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং দুর্যোগের সময় মানুষকে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।