শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় টানা চার দিন জেরা! সিআইডি হানার মাঝেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ সুমিত রায়

শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় আজও ম্যারাথন জেরা করা হচ্ছে সুমিত রায়কে। এই নিয়ে টানা চার দিন ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে ডেবরা চাকরি দুর্নীতি মামলাতেও তাঁকে একদিনের জন্য জেরা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে লাগাতার পাঁচ দিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। এদিকে, মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সুমিত রায়। তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতের কাছে অন্যান্য চারটি এফআইআর (FIR) মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছেন।

আইনজীবীর জোরালো দাবি, ইতিমধ্যেই অন্য দুটি মামলায় তাঁর মক্কেল আগাম জামিন পেয়েছেন। পাশাপাশি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন তিনি। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই বাকি মামলাগুলির শুনানি দ্রুত শেষ করার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আগামী সোমবার শুনানির একটি বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করারও অনুরোধ করা হয়। তবে এই আর্জির জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদালতের পুরো কার্যতালিকা হুট করে আপডেট করা সম্ভব নয়। পূর্বনির্ধারিত কার্যতালিকা বা নিয়ম অনুযায়ীই সমস্ত মামলার শুনানি সম্পন্ন হবে।

দিন দুয়েক আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার পরেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত সুমিত রায়ের বেহালার বাড়িতে হানা দেয় সিআইডি (CID)। শুক্রবার গভীর রাতে স্থানীয় বেহালা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ক্যানেল রোডে সুমিত রায়ের বাসভবনে গিয়ে পৌঁছায় সিআইডির একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির মূল দরজার সামনে প্রায় দশ মিনিট অপেক্ষা করার পর ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়। এরপরেই সিআইডির আধিকারিকরা বেহালা থানার পুলিশ এবং একজন সরকারি ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রায় দশ মিনিট ভেতরে অতিবাহিত করার পর সিআইডি দল ও পুলিশ সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে ঠিক কী সুনির্দিষ্ট কারণে এদিন রাতে আচমকা সুমিত রায়ের বাড়িতে সিআইডি দল গিয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যদিও এই আকস্মিক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনা শুরু হয়েছে।