‘ককরোচ’ মন্তব্যের বিকৃত ব্যবহার! কেন্দ্র ও সিবিআইয়ের কাছে কঠোর জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মুখে একসময় শোনা গিয়েছিল ‘ককরোচ’ মন্তব্যটি। আর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং তার কমার্শিয়াল অপব্যবহারের অভিযোগে এবার নড়েচড়ে বসল দেশের শীর্ষ আদালত। অভিযোগ উঠেছে, ভার্চুয়াল আদালতের কার্যবিবরণীর অংশবিশেষ বেছে নিয়ে তা কৌশলে এডিট করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিচারপতি যে প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি করেছিলেন, তার সম্পূর্ণ ভুল অর্থ জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই মামলাতেই কেন্দ্র ও সিবিআইয়ের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম Times of India সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলা এই শুনানিতে আবেদনকারী তথা আইনজীবী রাজা চৌধুরী আদালতকে জানান যে, গত ১৫ মে মামলার শুনানির সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির মুখ থেকে ‘ককরোচ’ শব্দটি বেরিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই মন্তব্যের অংশবিশেষ কেটে নিয়ে তা এডিট করা হয় এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের বিচারব্যবস্থার গরিমা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আবেদনকারীর তরফে শীর্ষ আদালতের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যে, বিচারপতিদের মৌখিক পর্যবেক্ষণ বা রূপক মন্তব্যের বাণিজ্যিক অপব্যবহার, ট্রেডমার্কের অপব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়াই তা প্রচারের মতো ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত করা হোক। একইসঙ্গে এও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে ন্যায্য সমালোচনা, গণতান্ত্রিক ভিন্নমত, ব্যঙ্গ এবং বাকস্বাধীনতার অধিকার সর্বদা সুরক্ষিত রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, কোন প্রেক্ষাপটে ওই মন্তব্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতি? ‘সঞ্জয় দুবে বনাম দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল’ মামলার ১৫ মে-র শুনানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনজীবী রাজা চৌধুরী জানান, মূলত ভুয়া আইনজীবীদের দৌরাত্ম্য এবং আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধের প্রসঙ্গেই ওই রূপক মন্তব্যটি করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। বিচার ব্যবস্থার পেশাগত মানের অবনতি এবং তার প্রভাবে উদ্বিগ্ন হয়েই ওই পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ১৫ মে-র পর থেকেই আদালতের কার্যবিবরণীর ভিডিও ক্লিপ এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিচারপতিদের মৌখিক পর্যবেক্ষণকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে নানা ধরনের মিম তৈরি করা হচ্ছে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এই পরিকল্পিত চেষ্টার বিরুদ্ধে এবার শীর্ষ আদালত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশজুড়ে আইনি মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।