কলকাতা বিমানবন্দরে চরম উত্তেজনা! বিমান ছাড়তে দেরি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ১৭০ জন যাত্রী!

কলকাতা বিমানবন্দরে গত কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের বহু পরে বিমান ছাড়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শত শত যাত্রী, অন্যদিকে অবতরণের ঠিক মুহূর্তে ককপিটে তীব্র লেজার লাইটের আলো পড়ার ফলে বড়সড় বিপত্তির মুখে পড়েছিল একটি আন্তর্জাতিক বিমান। এই জোড়া ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আজ সকালে কলকাতা থেকে চেন্নাইগামী একটি নির্ধারিত বিমানকে ঘিরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। বিমানবন্দর সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ১৭০ জন যাত্রী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ওই বিমানটির সকাল সাড়ে ছ’টায় চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে বোর্ডিং পাসও সংগ্রহ করে নেন। কিন্তু এরপরেই শুরু হয় আসল জটিলতা। যাত্রীদের অভিযোগ, বিমান ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও সঠিক বা সময়মতো ঘোষণা করা হয়নি। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে যাত্রীরা লাউঞ্জে বসে থাকার পর যখন খোঁজ নিতে যান, তখনই তাঁদের জানানো হয় যে বিমানে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
এই খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অপেক্ষমাণ ১৭০ জন যাত্রী। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে আটকে থাকার কারণে যাত্রীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষের এই খামখেয়ালি মনোভাব এবং সঠিক সময়ে বিকল্প ব্যবস্থার অভাবের প্রতিবাদে তাঁরা বিমানবন্দর চত্বরে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দর সূত্রের মারফতে জানা যায় যে সমস্ত যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখে দুপুর সাড়ে বারোটার পর বিমানটিকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও এই দীর্ঘ বিলম্ব এবং অব্যবস্থার জেরে যাত্রীদের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
অন্যদিকে, এই ঘটনার কিছুদিন আগেই কলকাতা বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। কুয়ালালামপুর থেকে ছেড়ে আসা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান (এমএইচ-১৮৪) যখন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার ঠিক অন্তিম পর্যায়ে ছিল, তখন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ছোঁড়া তীব্র লেজার রশ্মি সোজা গিয়ে পড়ে বিমানের ককপিটে। ওই বিমানে সেই সময় ১৫৯ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি যখন রানওয়ে থেকে মাত্র আট নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই মধ্যমগ্রাম ও বারাসত সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই লেজার আলো নিক্ষেপ করা হয়।
তীব্র আলোর রোশনাইয়ে চোখের পলকে দিশেহারা হয়ে পড়েন মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের পাইলট। রাতের অন্ধকারে এই আকস্মিক হানায় বিমানটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় পাইলট চরম দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আকাশেই বিমানটিকে কিছু সময় চক্কর খাইয়ে রাখেন। নির্ধারিত সময় অর্থাৎ রাত ১১টা ২০ মিনিটের পরিবর্তে সামান্য বিলম্বে, প্রায় ১১টা ২৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামাতে সক্ষম হন পাইলট। ঘনঘন এই ধরনের বিমান সংক্রান্ত নিরাপত্তাহীনতা এবং যাত্রী পরিষেবায় চরম গাফিলতির ঘটনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসন যৌথভাবে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে।