নসীরুদ্দিন শাহকে ‘ধূর্ত শেয়াল’ বললেন কঙ্গনা! বলিউড কিংবদন্তিকে ঘিরে চরম আক্রমণ নেটপাড়ায়!

বলিউডের প্রবীণ ও বিশিষ্ট অভিনেতা নসীরুদ্দিন শাহকে বেনজির ও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি-র তারকা সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। নসীরুদ্দিনকে ‘ধূর্ত’ ও শেয়ালের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন তিনি। শুধু কঙ্গনা একা নন, বর্ষীয়ান এই অভিনেতাকে সরাসরি নিশানা করেছেন বলিউডের আর এক পরিচিত মুখ পীযূষ মিশ্রও। ঝাড়খণ্ডে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ছাত্র আন্দোলন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নসীরুদ্দিনের নীরবতা ও দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গোটা দেশ যখন নানা ইস্যুতে উত্তাল, সেই সময়ে বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নসীরুদ্দিন শাহ। তিনি ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছিলেন যে, বিবেকের সাড়া পেলে হয়ত তারকারা মুখ খুলবেন, কারণ মুখে হাড় থাকা কুকুর যেমন ঘেউ ঘেউ করতে পারে না, তেমনই হয়তো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তাঁরা চুপ রয়েছেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন এবং অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে নসীরুদ্দিনের সেই পুরনো মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে আসরে নেমেছেন পীযূষ মিশ্র। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই মুহূর্তে কোন কোন ব্যক্তির মুখে হাড় আটকে রয়েছে এবং কাদের ভূমিকা ঠিক কী রকম। পীযূষের এই মেপে বলা অথচ তীব্র কটাক্ষের পরই নসীরুদ্দিনের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হন কঙ্গনা।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পীযূষ মিশ্রের এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে কঙ্গনা রানাউত এক বিস্ফোরক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন যে, আজকের দিনে মানুষকে কুকুর বলা একপ্রকার প্রশংসাসূচক হতে পারে কারণ তাদের আনুগত্য এবং মিষ্টি স্বভাব অতুলনীয়, কিন্তু নসীরুদ্দিনের মতো ধূর্ত শেয়াল হওয়ার চেয়ে কুকুর হওয়া অনেক বেশি শ্রেয়। কঙ্গনা আরও অভিযোগ করেন যে, নসীরুদ্দিন এই দেশের অন্ন খেয়েও প্রকারান্তরে প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে কথা বলেন এবং তাদের হয়ে লড়াই করেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নসীরুদ্দিনকে পাকিস্তানপন্থী বলে পরোক্ষ আক্রমণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। দেশের অন্যতম সেরা ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ৭৬ বছর বয়সি এই অভিনেতার বিরুদ্ধে এমন কুরুচিকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় বইছে।