তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল দেড় হাজার বাড়ি! ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যুমিছিল কলম্বিয়ায়

গত সোমবার কলম্বিয়ার বুকে নেমে এল এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। রিখটার স্কেলে ৭.৪ মাত্রার অত্যন্ত শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। রাজধানীর বোগোটা থেকে দূরে চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’-এ মাটির প্রায় ৯৬ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের মূল উৎস বা উপকেন্দ্র। হঠাৎ এই ভূকম্পনের জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ১ হাজার ৫৭৫টি আবাসিক বাড়ি এবং ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, যাদের অনেকেই ধসে পড়া বাড়িগুলির কংক্রিটের স্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই কঠিন ও মন্থর হয়ে উঠছে উদ্ধারকাজ। তা সত্ত্বেও জীবনের শেষ চিহ্নটুকুও খুঁজে বের করতে একবিন্দুও হাল ছাড়তে নারাজ উদ্ধারকারী দলগুলি। অত্যাধুনিক ক্যামেরা, বিশেষ রাডার এবং সংবেদনশীল সিসমিক সেন্সরের সাহায্য নিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোথাও থেকে একটু ক্ষীণ নড়াচড়া, ছোট শব্দ কিংবা প্রাণের সামান্যতম স্পন্দন মিললেই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে উদ্ধারকাজের প্রতিটি মুহূর্ত এখন অত্যন্ত মূল্যবান ও জীবনদায়ী হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধার করা যাবে কি না, সেই আশাটুকু বুকে নিয়েই দিনরাত এক করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এই প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর লাগাতার আফটারশকের ভয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে তা মোকাবিলায় গোটা দেশে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। অন্যদিকে, এই চরম বিপদের দিনে বিপর্যস্ত কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ভারতের পক্ষ থেকেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ার পাশে থাকার বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ নিঃশ্বাস নিচ্ছেন কি না, সেই আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে এখন একটাই প্রার্থনা চলছে সর্বত্র।