মাত্র ৮ দিনে কামড়ে দিল ১৫০ জনকে! মহারাষ্ট্রে পাগলা কুকুরের ত্রাসে থমকে গেল জনজীবন!

মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে পরপর সামনে আসা মর্মান্তিক ঘটনাগুলো মানুষ ও পথকুকুরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের এক ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। গত আট দিনের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুকুরের কামড় ও ভয়ঙ্কর আক্রমণের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে কল্যাণ, পুনে এবং পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় শহরে বিগত তিন দিনেই কুকুরের তাণ্ডবের একাধিক চাঞ্চল্যকর খবর মিলেছে। পুনে, সোলাপুর এবং জালনা জেলা থেকে একের পর এক হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, মহারাষ্ট্রে বেওয়ারিশ কুকুর ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব এখন কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

মহারাষ্ট্রের কল্যাণ পশ্চিমের সন্দীপ হোটেল এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটিমাত্র পাগলা কুকুর চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এলাকাবাসীর ওপর লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে ওই কুকুরটি একাই প্রায় ১৫০ জনকে আহত করে। দিনের পর দিন এই ধরণের পশুট্রাজে গোটা এলাকায় চরম ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কল্যাণ পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে এক বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। খাদকপাড়া এবং মহাত্মা ফুলে থানার পুলিশ দল একটানা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর অবশেষে ওই ত্রাস সৃষ্টিকারী কুকুরটিকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। তবে সমস্যার এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় রুক্মিণীবাই মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। সোমবার এই হাসপাতালেই নতুন করে ১০৭ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী নথিভুক্ত হয়েছেন, যা আগের দিন ছিল মাত্র ৫৮ জন। কেডিএমসি-র জরুরি পরিষেবা এই সংকট মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় কর্পোরেটর ও সাধারণ মানুষ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মেত্রে বস্তি এলাকায় মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটে যেখানে চার বছরের এক শিশুকন্যা বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে একদল হিংস্র পথকুকুর তাকে ঘিরে ধরে। শিশুটি ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও কুকুরগুলো তাকে তাড়া করে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে। আশপাশের মানুষ শিশুর চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে এসে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। একই চিত্র ধরা পড়েছে জালনা জেলার আম্বাদ তহসিলের শাহগড় গ্রামে। সেখানে দশ বছরের এক বালক রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি জলাতঙ্কগ্রস্ত কুকুরের আকস্মিক আক্রমণের শিকার হয়। কুকুরটি তার গালে সজোরে কামড় বসিয়ে গুরুতর আহত করে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সোলাপুরের ভবানী পেঠ এলাকায়। সেখানে নয় বছরের এক নিষ্পাপ শিশু সমর্থ যোগীনাথ স্বামী বাড়ির সামনে সাইকেল চালানোর সময় একটি কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ক্ষিপ্ত হয়ে কুকুরটি সঙ্গে সঙ্গে তাকে কামড়ে দেয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সোলাপুরের স্থানীয় হাসপাতালে সময়মতো জলাতঙ্কের টিকা বা এআরভি না মেলায় শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসার অভাবে ওই অবুঝ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।