মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড়! একলাফে হু হু করে বাড়ল দেশের বৈদেশিক ঋণ, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্টে কপালে চিন্তার ভাঁজ

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় তথ্য প্রকাশ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে ভারতের বৈদেশিক ঋণ। চলতি বছরের জুন ত্রৈমাসিকের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ৭৭৮.২ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, মার্চ ত্রৈমাসিকের তুলনায় মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ভারতের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১৫.৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭৪,৮৯,৩৯৬.৮ কোটি টাকা।
জিডিপি অনুপাতের স্বস্তি এবং আসল চিত্র
ঋণের পাহাড় বাড়লেও এর মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর শুনিয়েছে জিডিপি-র সঙ্গে তুলনামূলক হিসাব। দেশের মোট জিডিপি-র তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাতে সামান্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে যেখানে এই অনুপাত ছিল ২০.৯ শতাংশ, জুন ত্রৈমাসিকের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৮ শতাংশে। অর্থনীতি কিছুটা এগিয়ে চলায় ঋণের সামগ্রিক বোঝার চাপ সামান্য হলেও হালকা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্য মুদ্রার কারসাজি ও ঋণের ধরন
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারত কেবল ডলারে নয়, ইউরো কিংবা ইয়েনের মতো অন্যান্য মুদ্রাতেও ঋণ নিয়ে থাকে। তবে হিসেব প্রকাশের সময় তা ডলারে রূপান্তরিত করা হয়। শক্তিশালী ডলারের কারণে কাগজে-কলমে ঋণের অঙ্ক সামান্য কম দেখালেও, হিসাব বাদ দিলে বাস্তবে ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি (এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা) ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৪.৭ বিলিয়ন ডলারে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রেই ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সিংহভাগই অর্থাৎ প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে ডলারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈদেশিক ঋণের বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।