চোখ বন্ধ, মুখে চামচে আগুন আর মাঝখানে জ্বলছে বৃত্ত! ১৭ বছরের জেন-জি কিশোরীর কাণ্ড দেখলেই চমকে যাবেন!

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ফিড স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের সেই বিখ্যাত বাণী, “স্বপ্ন সেটা নয়, যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো; স্বপ্ন সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।” আজকের জেন-জি প্রজন্ম এই উক্তিটিকে কেবল মুখে আওড়ায় না, বরং অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দেখায়। সোদপুরের পিয়ারলেস নগরের বাসিন্দা সতেরো বছর বয়সি মেধাবী কিশোরী রণস্বরূপা চক্রবর্তী ঠিক এমনই এক অনন্য ইতিহাস গড়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। সোদপুর নারায়ণা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্রী সম্পূর্ণ চোখ বন্ধ করে, মুখে চামচ রেখে তাতে আগুন জ্বালিয়ে একেবারে আগুনের বৃত্তের মধ্যে একপদ শীর্ষাসন করে সরাসরি ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে খোদাই করে নিয়েছেন।
খুব সাধারণ এক সূত্র থেকে শুরু হয়েছিল রণস্বরূপার এই অসামান্য যোগাসনের যাত্রা। যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার বছর, তখন অন্য আট-দশটি বাচ্চার মতো ক্রিকেট, ফুটবল বা ব্যাডমিন্টনের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ তৈরি হয়নি। পরিবর্তে যোগাসনকেই তিনি নিজের জীবনের ধ্যানজ্ঞান ও একমাত্র লক্ষ্য বানিয়ে নেন। রণস্বরূপা নিজেই জানান যে তাঁর কোনো পেশাদার কোচ বা কোনো বিশেষ অ্যাকাডেমির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। প্রথম স্কুলের হাত ধরে তাঁর যোগাভ্যাসের সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ইউটিউব দেখে কঠিন থেকে কঠিনতর আসন রপ্ত করেছেন। তবে তিনি নিজে কখনো অন্য কাউকে সরাসরি ইউটিউব দেখে কঠিন যোগাসন শেখার পরামর্শ দেন না, কারণ শারীরিক আঘাত বা পেন্সিল-বই পড়ার মতো যোগাভ্যাসের বৈজ্ঞানিক কৌশল না জানলে বড় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে।
কীভাবে এই অবিশ্বাস্য রেকর্ডের খোঁজ মিলল? কিশোরী নিজেই জানিয়েছেন যে খবরের কাগজে বিশ্বরেকর্ডের কথা পড়ার পর স্কুলের উৎসাহে তিনি নিজের নাম ও সাফল্যের বিবরণ পাঠিয়ে দেন। তবে শর্ত ছিল একেবারেই অভিনব কিছু করে দেখানোর। এর আগে যিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন, তাঁর সময় ছিল মাত্র ৩৩ সেকেন্ড। সেই রেকর্ড ভেঙে রণস্বরূপা একটানা ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ড ধরে এই বিপজ্জনক আসনটি সফলভাবে প্রদর্শন করেন। শহরের একটি হল ভাড়া করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে এই চোখ কপালে তোলার মতো কীর্তি গড়ে তিনি তাক লাগিয়ে দেন উদ্যোক্তাদেরও। একসময়ে যে আত্মীয়-পরিজনরা তাঁকে যোগাসন করতে বারণ করতেন, আজ তাঁদের সবার চোখে তিনি এক জীবন্ত সুপারস্টার। ভবিষ্যতে কম খরচে একটি যোগা একাডেমি খোলার স্বপ্ন দেখা এই জেন-জি কিশোরীর চোখ এখন আরও বড় কোনো সাফল্যের দিকে।