১৯ বছর পর ফাঁস ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’র গোপন রহস্য! যে শুটিংয়ের জন্য ১৫ রাত ঘুমাননি শাহরুখ-বিদ্যারা!

বলিউডের অন্যতম আইকনিক ও অনুপ্রেরণামূলক ছবি ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ সফলভাবে তার ১৯ বছর পূর্ণ করেছে। মুক্তির পর প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও এই ছবির আবেদন আজও একটুও ম্লান হয়নি। শাহরুখ খানের দুর্দান্ত অভিনয়, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং প্রতিটি দৃশ্যের হৃদয়স্পর্শী সংলাপ এই সিনেমাটিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি কাল্ট ক্লাসিকে পরিণত করেছে। ছবির ১৯ বছর পূর্তির এই বিশেষ মুহূর্তে পর্দার পেছনের বহু অজানা ও রোমাঞ্চকর স্মৃতি শেয়ার করেছেন খোদ ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী বিদ্যা মালভাদে। ছবিতে ভারতীয় মহিলা হকি দলের অধিনায়ক বিদ্যা শর্মার চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করে শুটিংয়ের সময়ের এক অজানা ও মজার ঘটনা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
বিদ্যা মালভাদে তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন যে ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আশীর্বাদ, যা আজও দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পরেও মানুষ তাঁকে তাঁর অভিনীত চরিত্র ‘বিদ্যা শর্মা’ হিসেবে মনে রেখেছেন, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের ও বিশেষ বিষয়। তিনি মনে করেন, মা-বাবার আশীর্বাদ, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দর্শকদের অফুরন্ত ভালোবাসার ফলেই আজও তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে রয়েছেন। ছবির শুটিংয়ের কঠিন দিনগুলির কথা স্মরণ করে বিদ্যা জানান, যখন তাঁরা এই ছবির কাজ শুরু করেছিলেন, তখন তাঁদের বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না যে এই সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হতে চলেছে। সেই সময় সমস্ত অভিনেত্রীরা শুধুমাত্র নিজেদের চরিত্র এবং হকি খেলার উন্নতির দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছিলেন।
ছবির নেপথ্য প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়ে বিদ্যা জানান, ছবির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মেয়েদের প্রায় এক বছর ধরে কঠোর হকি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বিভিন্ন ধরনের টেকনিক্যাল সেট প্লে শেখানো হতো এবং শুটিং চলাকালীনও তাঁরা ক্রমাগত সেই সমস্ত ড্রিল অনুশীলন করতেন। এমনকি ক্যামেরার সঠিক পজিশন কোথায় রয়েছে, সেদিকেও তাঁরা খুব একটা নজর দিতেন না; তাঁরা সম্পূর্ণভাবে নিজেদের হকি খেলা এবং আবেগের ওপর ফোকাস রেখেছিলেন। একটানা এক বছর পেশাদার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ছবিটির মূল শুটিং দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলেছিল। যে দিনগুলিতে অফিশিয়াল শুটিং থাকত না, সে দিনগুলিতেও বিদ্যা মাঠে গিয়ে বাকি সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে হকি অনুশীলন চালিয়ে যেতেন।
ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর অংশ অর্থাৎ ক্লাইম্যাক্সের হকি ম্যাচের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বিদ্যা জানান যে, পুরো কলাকুশলী ও কাস্টিং টিম অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ছয় সপ্তাহ কাটিয়েছিল। ছবির সেই আইকনিক ক্লাইম্যাক্স হকি ম্যাচের চিত্রগ্রহণ একটানা ১৫ রাত ধরে করা হয়েছিল। ওই ম্যাচে পেশাদার অস্ট্রেলিয়া ও কোরিয়ার মহিলা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছিলেন। পর্দায় চিত্রিত ১৬ জন নারীর এই হকি দলের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক কেবল ক্যামেরার সামনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পর্দার বাইরেও তা দৃঢ়ভাবে বজায় ছিল। আজও সেই সমস্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে এক গভীর ও অটুট বন্ধুত্ব রয়েছে, যা এই ছবির অন্যতম বড় প্রাপ্তি।