“মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ-দই আর পচা মাংস!”-সিনেমার কায়দায় হাই-প্রোফাইল বারে বড় অভিযান

বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো সাজসজ্জা এবং আকাশছোঁয়া খাবারের দাম, কিন্তু অন্দরের ছবিটা যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা ফের প্রমাণ হলো বেঙ্গালুরুতে। শহরের একের পর এক নামী হোটেল ও পানশালায় অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর (Food Safety Department)। আর সেই অভিযানেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর এবং গা শিউরে ওঠার মতো এক ছবি। বেঙ্গালুরুর একটি বিলাসবহুল ফ্যান্সি বারের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হলো প্রায় ৪৫ কেজি পচা মাংস, যাতে ইতিমধ্যেই ছত্রাক গজিয়ে গিয়েছিল।

স্কাইয়ে লাউঞ্জে মিলল ৪৫ কেজি পচা মাংস ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার

বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত ইউবি সিটি (UB City) বিলাসবহুল শপিং মলের ভেতরে অবস্থিত ‘স্কাইয়ে লাউঞ্জ’ (Skyye Lounge) নামক নামী পানশালায় হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা। রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাবার সংরক্ষণের নিয়ম না মানার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়।

  • পচা মাংস ও ছত্রাক: রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হওয়া মুরগি ও গরুর মাংসের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫ কেজি, যা সম্পূর্ণ খাওয়ার অযোগ্য। মাংসগুলির গায়ে ছত্রাক জন্মে গিয়েছিল।

  • মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ও দই: রান্নাঘর থেকে এমন দুধ ও দই উদ্ধার হয়েছে, যার মেয়াদ প্রায় ১০ দিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

  • অন্যান্য সামগ্রী: সব মিলিয়ে ওই লাউঞ্জ থেকে ৫১ কেজি খাবার অযোগ্য ঘোষণা করে নষ্ট করা হয়। যার মধ্যে ছিল ৬ কেজি ভেজিটেবল কাটলেট এবং প্রায় ১৫ লিটার ব্যবহৃত রান্নার তেল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ওই পানশালার রান্নাঘরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একাধিক নামী হোটেল ও সরবরাহকারী সংস্থাতেও হানা

শুধু স্কাইয়ে লাউঞ্জ নয়, বেঙ্গালুরুর একাধিক জনপ্রিয় হোটেল ও ক্যাটারিং সংস্থাতেও এই অভিযান চালানো হয়:

  • রয়্যাল চেন হোটেল: এখান থেকে ৫০ কেজি হাঁসের মাংস এবং ৫ কেজি মাছ সহ মোট ৫৫ কেজি খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • মাদ্রাস কিচেন ও টেসকন হোটেল: যথাক্রমে ৫ কেজি কাঁচা মটরশুঁটি এবং ৫ কেজি মাশরুম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • সেনচেজ হোটেল: প্রায় ৩ কেজি মাছ এবং কেক, আলু, টাকো সহ ৭ কেজি অনিয়মের খাবার নষ্ট করা হয়েছে।

এছাড়াও বড় বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবার সরবরাহকারী সংস্থা ‘কোল্ডম্যান লজিস্টিক্স’ এবং ‘রাধাকৃষ্ণ ফুডল্যান্ড’-এর গুদামেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকা প্রায় ৭০ কেজি সয়া সস এবং বিভিন্ন পানীয় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস বরদাস্ত করা হবে না। এই অভিযান থেকে মোট ৫টি মাংসের নমুনা সহ ১৩টি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট’ (FSSA) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পানশালা ও হোটেলগুলির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেঙ্গালুরুর মতো আইটি শহরের নামী পানশালাগুলিতে এই ধরনের অনিয়ম সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।