কী শর্তে আটকে রয়েছে বন্দি কৃষকের মুক্তি? জলপাইগুড়ি সীমান্ত কাণ্ডে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পরেও ধোঁয়াশা অব্যাহত!

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে অপহৃত ভারতীয় কৃষক দীপঙ্কর গোপকে দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ওপারে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হাতে এক ভারতীয় কৃষকের বন্দি থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গোটা সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃত কৃষককে দ্রুত এবং অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁর পরিবারবর্গ ও স্থানীয় গ্রামবাসী। একইসঙ্গে, এই পরিস্থিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। কোন গোপন শর্তে আটকে রয়েছে দীপঙ্করের মুক্তি এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের ঠিক কী ফলাফল সামনে এল, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েকদিন আগে, যখন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে আচমকাই দীপঙ্কর গোপ নামে ওই কৃষক নিখোঁজ হয়ে যান। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁকে ওপারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, বারবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারের বিষয়ে কোনো সদর্থক বা নিশ্চিত খবর মেলেনি। এর ফলে ক্ষোভের আগুন আরও বেশি দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষের মনে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্ত সুরক্ষায় আরও বেশি কড়াকড়ি থাকা প্রয়োজন ছিল, যা এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারত।

অন্যদিকে, কূটনৈতিক স্তরে এই অপহরণের জট কাটাতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর। তবে সেই বৈঠকের পরেও দীপঙ্করের মুক্তি মিলবে কি না বা কী ধরনের শর্তের বেড়াজালে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ওপার বাংলার দুষ্কৃতীরা কোনো মুক্তিপণ বা অন্য কোনো অবৈধ শর্তের বিনিময়ে তাঁকে আটকে রেখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী। পরিবারের একটাই আর্জি, অবিলম্বে কেন্দ্র সরকারের কড়া পদক্ষেপে সুস্থ শরীরে যেন ঘরে ফিরে আসেন দীপঙ্কর।