বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপ সামলাতে চাই অভিজ্ঞতা! রোহিত-বিরাটকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল রাহানের!

ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকা রোহিত শর্মার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাম্প্রতিককালে নানা জল্পনা ও গুঞ্জন দানা বেঁধেছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং দল থেকে বাদ পড়ার নানা গুঞ্জনের মাঝেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাঁর পরবর্তী ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে। ঠিক এই আবহেই ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানে রোহিত শর্মার পাশে দাঁড়িয়ে বিসিসিআই এবং নির্বাচকদের উদ্দেশ্যে এক জোরালো সওয়াল করেছেন। তাঁর পরিষ্কার মত, প্রতিটি পৃথক সিরিজের পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে রোহিতের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা একেবারেই উচিত নয়। বরং বোর্ডের উচিত ২০২৭ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তাঁকে স্পষ্টভাবে রাখা এবং তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করা।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাহানে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন যে, ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের উচিত রোহিত শর্মাকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া যে তিনি আগামী ২০২৭ সালের বিশ্বকাপেও দলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিগত বছরগুলিতে ভারতীয় দলের সাফল্যে রোহিতের অভাবনীয় অবদানকে স্মরণ করে রাহানে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমঞ্চের মতো প্রেসার কুকার পরিস্থিতিতে এমন একজন অভিজ্ঞ এবং পরীক্ষিত ক্রিকেটারের উপস্থিতি দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজে রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছিল, যা তিনি লর্ডসের ঐতিহাসিক ময়দানে ১১০ বলে ১৩৮ রানের এক চোখ ধাঁধানো দুর্দান্ত ইনিংস খেলে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে রান না পেলেও, লর্ডসের সেই নান্দনিক ইনিংস প্রমাণ করেছিল যে গুটি কয়েক খারাপ ম্যাচের ফর্ম দিয়ে কখনই একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের প্রকৃত মূল্য বা গুরুত্ব বিচার করা যায় না।
আসন্ন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজেও রোহিত শর্মা ভারতীয় দলে নিজের জায়গা বজায় রেখেছেন। শুধু রোহিত একা নন, আধুনিক ক্রিকেটের অপর স্তম্ভ বিরাট কোহলিকেও ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে ক্রিকেট খেলার সুযোগ ও দলের সুদৃঢ় সমর্থন দেওয়া উচিত বলে মনে করেন রাহানে। তাঁর মতে, কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে সিনিয়র ক্রিকেটাররা মূলত অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মানসিক ভরসা ও আস্থার কাঙাল হন। ক্রীড়াজগতে ফর্ম যে সব সময় এক রকম থাকে না, সেই সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাহানে জোর গলায় বলেন যে, কয়েকটি ম্যাচের ভালো বা মন্দ ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো সিনিয়র ক্রিকেটারের মেধা ও গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ অন্যায়। যদিও ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ যখন অনুষ্ঠিত হবে, তখন রোহিতের বয়স প্রায় চল্লিশের কোঠায় পৌঁছাবে। ফলে ফিটনেস বজায় রাখা, ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয়গুলি নির্বাচকদের চিন্তায় থাকা স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও, বড় ম্যাচে রোহিতের ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স এখনও তাঁকে বাকিদের থেকে বহুলাংশে আলাদা করে রাখে।