বকেয়া ডিএ মেটাতে কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্টের কমিটি! স্বস্তিতে লক্ষাধিক সরকারি কর্মী

দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে এবার সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটির তরফে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য, যা দেশের বা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মীর জন্য এক বিরাট স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে। আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে যে, এই দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা কাটাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মনিটরিং কমিটির তরফে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যাঁদের ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যে সফলভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা হয়ে গিয়েছে, শুধুমাত্র তাঁরাই ২০০৮-২০১৫ সালের ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ, সমস্ত সরকারি কর্মী একযোগে এই প্রথম কিস্তি পাচ্ছেন না; বরং যাঁদের দাপ্তরিক নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রসেসিং সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁরাই আপাতত এই প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে কমিটিকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সময় পর্যন্ত মোট ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান ও আপলোড করার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং এই সংখ্যক কর্মীই প্রথম কিস্তির ডিএ পাওয়ার তালিকায় নিরাপদে রয়েছেন।
পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য মনিটরিং কমিটি একটি কড়া সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত যোগ্য কর্মীদের প্রথম কিস্তির বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্য প্রশাসনের কাছে একটি কঠোর বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ রাজ্য সরকারকে মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার একটি বিরাট অংক মেটাতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা সম্ভব, তা তদারকি করতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে কমিটি তাদের বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করেছে এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে হওয়া বিগত বৈঠকগুলোর সমস্ত কার্যবিবরণী আদালতের কাছে জমা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরনো কর্মচারীদের বেতন ও সার্ভিস সংক্রান্ত বহু প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে উপলব্ধ না থাকায় ডিএ-র সঠিক অঙ্ক নির্ধারণের জন্য ই-সার্ভিস বুক আপডেট করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আর এই কারণেই গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, প্রথম ধাপে নথিভুক্ত ৬৪ হাজার কর্মীর পাশাপাশি আরও প্রায় ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৯১ জন কর্মী তাঁদের সার্ভিস বুক আপডেট করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। ফলে আগামী দিনে প্রাপকের এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বাকি কর্মীরাও তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাওয়ার আশা দেখতে পাচ্ছেন। মামলাকারীদের আইনজীবীরাও যত দ্রুত সম্ভব এই বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।