‘পুলিশকে না জানিয়ে গিয়ে…!’-মমতার গাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ ও গাড়িতে কাদা-জুতো নিক্ষেপের ঘটনার পর তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পানিহাটিতে আরজি কর নির্যাতিতার স্মরণসভার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, পুলিশকে না জানিয়ে ছুটির দিনে রাজনীতি করতে গিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের ‘জনরোষের’ শিকার হয়েছেন।
‘পুলিশ যথাযথ নিরাপত্তা দিয়েছে, বিজেপি যুক্ত নয়’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু দাবি করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি টিভির ছবিতে যতটুকু দেখেছি, সিনিয়র পুলিশ ডিসি-র নেতৃত্বে পুলিশ টিম তাঁকে সঠিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। সেখানে বিজেপির কোনো পরিচিত মুখ বা ঝান্ডা আমি দেখিনি।” হালিশহরের এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই তাঁর মত।
মৃত বীরজুর পরিবার নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
মমতার সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বীরজু কেওটের পরিবার আদতে মমতার সেখানে যাওয়া নিয়ে আগ্রহী ছিল না। পরিবারের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ওপর আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “পরিবার বলছে পুলিশ-প্রশাসনই বিচার দিতে পারবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার দিতে পারবেন না। উনি জোর করে বলতে চাইছেন লক-আপে মেরে দিয়েছে, কিন্তু বাড়ির লোক তো অন্য কথা বলছে।”
‘তিলোত্তমার বাড়ি যেতে পারতেন…’
মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু আরও বলেন, সাহায্য করার ইচ্ছা থাকলে তিনি অন্য কোথাও যেতে পারতেন। এমনকি তিলোত্তমার প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “একটা স্টেট হাসপাতালের ভিতরে মারা হয়েছিল তিলোত্তমাকে, প্রমাণ লোপাট করতে গিয়েছিলেন, সেদিন আপনার গাড়িতে কাদা মাখাবে নাকি ফুল ছুড়বে?” সব মিলিয়ে হালিশহরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তরজা চরমে।