“সিবিআই তদন্তের সুযোগ নেই, এবার রাজ্য পুলিশ তদন্ত করবে!” অভয়া কাণ্ডে শ্মশানের রহস্য নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে পানিহাটিতে আয়োজিত অভয়া স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে সিবিআই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে, ঠিক তখনই অভয়ার শেষকৃত্য বা শ্মশান ঘাট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি নতুন রাজ্য পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিলেন তিনি। সরাসরি আঙুল তুললেন স্থানীয় নেতৃত্ব তথা নির্মল ঘোষের দিকে।
শ্মশান ঘাটে কারচুপি? কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
পানিহাটির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রত্না দেবীর পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে এবং হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বা আইনি পরিধি বজায় রেখেই ১৯৯৫ সালের স্পেশাল কমিশন অ্যাক্টের আওতায় এই নতুন তদন্তের ঘোষণা করা হচ্ছে।
সিবিআই তদন্তের পরিধি আদালতের নির্দেশে মূলত ধর্ষণ-খুন, আর জি কর ভাঙচুর এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় শ্মশানের বিষয়টি রাজ্য পুলিশের হাতে রাখছেন বলে স্পষ্ট জানান তিনি। শ্মশানের অনিয়ম প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্মশান ঘাটে একটা নির্দিষ্ট খরচ দিতে হয়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে বাড়ির লোক কোনো খরচ দেননি। নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির লোককে সই করতে হয়, কিন্তু এখানে কেউ সইও করেননি।” এরপরই সরাসরি নাম করে তিনি অভিযোগের তীর দাগেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখার্জি—এই তিনজন এই কাণ্ড করেছে। এখানে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার রয়েছেন। এই বিষয়ে সিবিআইয়ের এক্রিয়ার নেই, তাই রাজ্য পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিক। আমার যা করার আছে আমি করব। অভয়াকে আমরা ভুলিনি, মানুষ আমাদের জিতিয়েছে এই অভয়ার বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্যই।” দুই বছর পার হয়ে গেলেও অভয়া কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রতিটি ছোট ও বড় সত্য সামনে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেই এদিন বার্তা দেন তিনি।